kalerkantho


দুই পক্ষে ভারসাম্য রেখে ফিলিস্তিন সফরে মোদি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দুই পক্ষে ভারসাম্য রেখে ফিলিস্তিন সফরে মোদি

গত বছর দিল্লিতে আব্বাস ও মোদি। ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল শুক্রবার ফিলিস্তিনে ঐতিহাসিক সফরের উদ্দেশে রওনা দেন। তিনিই হচ্ছেন ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে পা রাখা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ফিলিস্তিনকে ভারত সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার ৩০ বছর পর দেশটির কোনো প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনে পা রাখছেন।

তিনি দুদিকেই রয়েছেন, তাঁর ‘মানদণ্ডে’র কাঁটা কোনো দিকেই হেলে পড়েনি বোঝাতে শুক্রবার প্যালেস্টাইন রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই প্রথম ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাংককে দখলমুক্ত করার লড়াই ‘ইন্তিফাদা’র ধাত্রী ভূমি প্যালেস্টাইনে।

গত জানুয়ারিতে ভারতে সরকারি সফরে আসা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দিল্লিতে বুকে জড়িয়ে ধরে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন মোদি। আর এর চার সপ্তাহের মাথায় তিনিই যাচ্ছেন ফিলিস্তিনের রামাল্লায়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফরে তিনটি দেশে যাচ্ছেন মোদি। ফিলিস্তিন, আরব আমিরাত ও ওমান। দিল্লি থেকে উড়ে মোদি প্রথমে নামবেন জর্দানের রাজধানী আম্মানে। সেখান থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে ফিলিস্তিনের রামাল্লা শহরে পৌঁছবেন একটি চপারে। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাবেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। যিনি এরই মধ্যে মোদির সফরকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করেছেন। আর মোদিকে বলেছেন, ‘মহান অতিথি’। গত বছর ভারত সফরে এসেছিলেন মাহমুদ আব্বাস। তারপর আরব আমিরাত ও ওমান সফর শেষে সোমবার দিল্লিতে ফিরবেন মোদি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরকারি বৈঠকে বসার আগে এই ঐতিহাসিক সফরে ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের (পিএলও) প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাতের স্মারক ভবনে গিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনের দাবিকে কামান ও বন্দুকে দাবিয়ে ইসরায়েল একতরফাভাবে নিজেকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার পর থেকেই ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে এসেছে ভারত। কিন্তু গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, ফিলিস্তিনের প্রতি এত দিনের অবস্থানে কি আর থাকবে ভারত?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আবিব থেকে ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ভারতের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছিল, গত এক বছরে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ‘সুমধুর’ হয়ে ওঠায়।

কিন্তু মোদি সরকার ভারতের পুরনো অবস্থান বদলায়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে যে প্রস্তাব গৃহীত হয় জাতিসংঘে, তাতে ১২৭টি দেশের সঙ্গে ভারতও ভোট দেয় আমেরিকার বিরুদ্ধে, যা আসলে ইসরায়েলেরও বিপক্ষে যায়। কারণ, পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী করার দাবি বরাবরই জানিয়ে আসছে আরব দেশগুলো। ইসরায়েল তা মানতে চায়নি বলেই ’৬৭-তে হয় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ।

দিল্লি যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন, দুই দেশের মধ্যেই ভারসাম্য বজায় রেখে চলবে, তার জোরালো ইঙ্গিত দিতে জানুয়ারিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভারত সফরের সময়েই দিল্লির তরফে ঘোষণা করা হয়, ফেব্রুয়ারিতে ফিলিস্তিন সফরে যাবেন মোদি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব বি বালা ভাস্কর বলেন, ‘ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন দুটি দেশকেই আমরা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আমাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় বলে মনে করি। এটাই আমাদের নীতি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেটাই বোঝাতে চাইছেন এবারের ফিলিস্তিন সফরে।’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।


মন্তব্য