kalerkantho


তিমি বলছে হ্যালো বাই বাই...

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তিমি বলছে হ্যালো বাই বাই...

প্রথমবারের মতো একটি শিকারি তিমি মানুষের কথা অনুকরণ করে ‘হ্যালো’, ‘বাই বাই’ বলছে। ফ্রান্সের মেরিন পার্কে একজন প্রশিক্ষকের কল্যাণে এটি সম্ভব হয়েছে। তিমিটি ‘অ্যামি’ এবং ‘ওয়ান, টু, থ্রি’ও বলতে পারে।

গবেষকরা জানতে পেরেছেন, শিকারি তিমি অন্যদের অনুকরণ করে নতুন ধ্বনি বা স্বর শিখতে পারে। মানুষ ছাড়া কিছু প্রাণীর মধ্যে তিমিকে পাওয়া গেল যারা শুনে অভূতপূর্ব আওয়াজ করতে পারে। সে তাঁর ব্লোহোয়েল দিয়ে মানুষের মতো কথা বলতে পারে। ফ্রান্সের মেরিনল্যান্ড অ্যাকোয়ারিয়ামে উইকি নামের একটি স্ত্রী তিমির ওপর গবেষণা করা হয়েছে।

সহগবেষক সেন্ট অ্যান্ড্রুস বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জোশেফ কল বলেন, ‘স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে এটি খুবই বিরল। মানুষ স্পষ্টত ভালো অনুকরণ করতে পারে...মজার বিষয় হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী সবচেয়ে ভালো।’

শিকারি তিমিরা স্বতন্ত্র ভাষা নিয়ে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে বসবাস করে। তারা অন্য সদস্যদের অনুকরণ করতে পারে, যদিও বিষয়টি পরীক্ষার প্রয়োজন আছে।

ড. কল বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, শিকারি তিমিরা নিজেদের এবং মানুষের কণ্ঠ অনুকরণ করতে পারে। এই ফল একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দেয় যে শিকারি তিমিরা কিভাবে কণ্ঠ অনুকরণ করতে পারে এবং তাঁদের বাচন/ভাষা কিভাবে বিকশিত করে।’

স্বর অনুকরণ মানুষের কথ্য ভাষার একটি নির্দেশক ছাপ। যেটি অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে একেবারেই দেখা যায় না। ডলফিন ও বেলুগা তিমি অন্য প্রজাতির কিংবা নিজেদের শব্দ অনুকরণ করতে পারে। কিছু পাখি মানুষের কথা অনুকরণ করতে পারে, যেমন তোতা পাখি। এ ছাড়া কাকপ্রজাতির কিছু পাখিও পারে।

সহগবেষক স্পেনের মাদ্রিদের কমপ্লুটেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জোস আব্রামসন বলেন, ‘উইকির সঙ্গে সাধারণ কথোপকথন এক দিন সম্ভব হতে পারে। হ্যাঁ, এটি ধারণা করাই যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাণীর মধ্যে মানুষের ধারণা আরোপের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমরা আরো বেশি অর্জন করতে পারব যদি আমরা বিভিন্ন প্রজাতির তার নিজস্ব পরিবেশে প্রাকৃতিক যোগাযোগ পদ্ধতি সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করি।’

সূত্র : বিবিসি।

 


মন্তব্য