kalerkantho


‘শান্তির অলিম্পিক’ নিয়ে সিউলের ঘরেই অশান্তি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘শান্তির অলিম্পিক’ নিয়ে সিউলের ঘরেই অশান্তি

আসন্ন শীতকালীন অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, উত্তর কোরিয়াকে অলিম্পিকে আনতে দক্ষিণ কোরিয়া যে ছাড় দিয়েছে, তা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেছে। অনেকেই বলছে, ‘শান্তির অলিম্পিক’ বানাতে গিয়ে এটা ‘পিয়ংইয়ং অলিম্পিক’ হয়ে যাচ্ছে।

পিয়ংইয়ংয়ের (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী) পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে কয়েক মাস ধরে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এ অবস্থায় আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবে শীতকালীন অলিম্পিক। তাতে পিয়ংইয়ংয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক চেষ্টা চালায় দক্ষিণ কোরিয়া। এ নিয়ে সপ্তাহ দুয়েক আগে বৈঠকে বসেন দুই কোরিয়ার কর্মকর্তারা। দুই বছরেরও বেশি সময় পর তাঁদের মধ্যে ওই বৈঠক হয়। তাতে খেলোয়াড়, শিল্পীসহ বড় একটি প্রতিনিধিদল পাঠাতে রাজি হয় পিয়ংইয়ং। অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক পতাকা নিয়ে হাঁটতেও রাজি হয় উভয় পক্ষ। এ ছাড়া দুই কোরিয়া মিলে যৌথভাবে নারীদের একটি আইস হকি টিম গঠনের সিদ্ধান্তও হয়। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি খেলায় ওই হকি দলে অন্তত তিনজন করে উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড় থাকবেন। এর বাইরে দুই কোরিয়ার শিল্পীরা যৌথভাবে অংশগ্রহণ করবেন অলিম্পিকের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়। যেসব ভেন্যুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে, সেগুলো পরিদর্শনে এরই মধ্যে সিউলে (দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী) গেছেন উত্তর কোরিয়ার একটি প্রতিনিধিদল।

সিউল শুরু থেকেই বলে আসছে, দুই কোরিয়ার মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে তারা অলিম্পিক গেমসকে অনুঘটক হিসেবে কাজে লাগাতে চায়। গত রবিবারও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘পিয়ংইয়ংয়ের অংশগ্রহণ দুই কোরিয়ার মধ্যকার উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।’

কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার অনেকেই সিউলের এ প্রচেষ্টাকে ‘বাড়াবাড়ি’ হিসেবে দেখছে। তারা বলছে, অলিম্পিকে আনতে পিয়ংইয়ংয়ের সব দাবিই মেনে নেওয়া হচ্ছে, যা ঠিক নয়। সিউলের অবস্থানের প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বিক্ষোভও হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা আগুনে পুড়িয়েছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ছবি।

সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ৭৩ শতাংশ মানুষ অলিম্পিকে যৌথ দল গঠনের বিরোধী। গতকাল দেশটির রক্ষণশীল দৈনিক পত্রিকা ‘দং-এ ডেইলি’র সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা উচিত। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার শান্তির অলিম্পিকের নামে পিয়ংইয়ংয়ের সব দাবিই মেনে নিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আরো চিন্তা ভাবনার দরকার ছিল।’

সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। সেখানে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে, ‘এটা কি দক্ষিণ কোরিয়ার অলিম্পিক, নাকি পিয়ংইয়ংয়ের?’ সেখানে অনেকেই উত্তর কোরিয়ার নেতারও নানামুখী সমালোচনা করে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু পরীক্ষা চালানোর পর ওই উপদ্বীপে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।  সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য