kalerkantho


সিরিয়ার ভেতরে ঢুকে পড়েছে তুর্কি সেনা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সিরিয়ার ভেতরে ঢুকে পড়েছে তুর্কি সেনা

সিরিয়ার ছিটমহল আফরিনে বিদ্রোহীদের দমনে তুরস্কের বাহিনী হামলা চালাচ্ছিল বেশ কয়েক দিন থেকেই। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, তাঁর দেশের স্থল সেনারা উত্তর সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত আফরিন এলাকায় ঢুকে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ১৫৩টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তুর্কি বাহিনীর এসব হামলায় সিরিয়ার এই অঞ্চলে শিশুসহ ১০ জন নিহত হয়েছে।

তুর্কি সেনারা কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠী পিপলস প্রটেকশন ইউনিটসের (ওয়াইপিজি) অবস্থানের ওপর দুই দিন আগে থেকে গোলা ছুড়তে শুরু করে। সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আফরিন অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে এই গোষ্ঠীটি। তুরস্ক এই কুর্দি মিলিশিয়াদের সন্ত্রাসী বলে মনে করে। তুরস্কের ভেতরে পিকেকে নামের যে কুর্দি গোষ্ঠীটি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে, সিরিয়ার এই কুর্দি মিলিশিয়াদের তাদের সহযোগী বলেই মনে করে তুরস্ক। তুরস্ক হামলা শুরু করার পর অবশ্য ওয়াইপিজেও সীমান্তবর্তী উত্তর তুরস্কের একটি শহরে চারটি রকেট ছোড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

তুর্কি বিমানগুলো গত শনিবার থেকে হামলা জোরদার করার পর থেকেই অবশ্য আফরিনের আতঙ্কিত লোকজন বাড়িঘর থেকে বের হয়নি। পথঘাট একেবারেই ফাঁকা।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, তুরস্কের সেনাবাহিনী আফরিন এলাকা থেকে কুর্দি জঙ্গিদের তাড়াতে একটি ৩০ কিলোমিটারব্যাপী ‘নিরাপদ এলাকা’ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে।

তবে কুর্দি মিলিশিয়া ওয়াইপিজি এ খবর অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করছে, তুরস্কের আক্রমণকারীদের হটিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত শনিবার রাতে কুর্দিদের নিক্ষিপ্ত একটি রকেট কিলিস নামের একটি সীমান্ত শহরে গিয়ে পড়ে, এরপর তুরস্কের দিক থেকেও তার জবাব দেওয়া হয়। ওয়াইপিজি মিলিশিয়ারা বলছে, শনিবার আফরিনে বেশ কয়েকজন বেসামরিক লোকসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছে।

গত বেশ কিছুদিন থেকেই তুরস্ক আফরিন এলাকার ওপর গোলাবর্ষণ করছিল। এরপর শনিবার থেকে শুরু হয় বিমান হামলা। তুরস্ক বলছে, স্থল অভিযান শুরু করার আগে তারা ১৫৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে।

তুরস্ক সমর্থিত ফ্রি সিরিয়ান আর্মির যোদ্ধারাও আফরিন এলাকায় ঢুকছে, এ খবর দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্দালু। সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটকে সহায়তা করেছে ওয়াইপিজি। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র এক পরিকল্পনা করে যে ইসলামিক স্টেটের ফিরে আসা ঠেকাতে তারা সিরিয়ায় তুরস্ক-সীমান্ত বরাবর নতুন একটি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করবে, যা হবে প্রধানত কুর্দিপ্রধান। এর পরই তুরস্ক ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে এবং এই বাহিনীকে ‘আঁতুড়ঘরেই নির্মূল করার’ ঘোষণা দেয়। তুরস্ক নিজে ন্যাটো সদস্য হলেও এই জোটের সঙ্গে তাদের এখন সরাসরি সংঘাত দেখা দিয়েছে। সূত্র : আল-জাজিরা, বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স।



মন্তব্য