kalerkantho


সিরিয়ায় স্থল অভিযান শুরুর দাবি এরদোয়ানের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সিরিয়ায় স্থল অভিযান শুরুর দাবি এরদোয়ানের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ছিটমহল থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের সরাতে তাঁর বাহিনী ‘কার্যত স্থল অভিযান’ শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এর আগে সতর্ক করে জানায়, তুরস্কের এ ধরনের অভিযান ওই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সেই সতর্কতাকে অগ্রাহ্য করেই অভিযান শুরু করল তুরস্ক। সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় বহু সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের সমাবেশ ঘটায়।

তুরস্ক এই অভিযান শুরুর কারণে সিরিয়ার সাত বছরের গৃহযুদ্ধ আবারও একটি নাটকীয় মোড় নিতে পারে। গত দুই দিন থেকেই তুর্কি সেনারা কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠী পিপলস প্রটেকশন ইউনিটসের (ওয়াইপিজি) অবস্থানের ওপর গোলা ছুড়ছে। সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আফরিন অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে এই গোষ্ঠীটি। তুরস্ক এই কুর্দি মিলিশিয়াদের সন্ত্রাসী বলে মনে করে। তুরস্কের ভেতরে পিকেকে নামের যে কুর্দি গোষ্ঠীটি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে, সিরিয়ার এই কুর্দি মিলিশিয়াদের তাদের সহযোগী বলেই মনে করে তুরস্ক।

সিরিয়ার আফরিন অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ যাতে এই কুর্দি মিলিশিয়াদের হাতে চলে না যায়, তুরস্ক সেটা নিশ্চিত করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্র এই কুর্দি মিলিশিয়াদের নিয়ে ৩০ হাজার সদস্যের একটি সীমান্তরক্ষী বাহিনী তৈরি করতে চায় বলে খবর প্রকাশের পর তুরস্ক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। সিরিয়ায় যাতে আবার ইসলামিক স্টেটের পুনরুত্থান না ঘটে সে জন্য এ ধরনের মিলিশিয়াদের কাজে লাগানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এমন অভিযোগ তোলেন যে যুক্তরাষ্ট্র আসলে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করতে চাইছে। তিনি এই চেষ্টা ভণ্ডুল করে দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। সিরিয়ার সীমান্ত লাগোয়া দুটি শহর আফরিন এবং মানবিজ থেকে তিনি এই কুর্দিদের নির্মূল করার জন্য শিগগিরই অভিযান শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। তবে কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠী ওয়াইপিজি তাদের বিরুদ্ধে তুরস্কের এসব অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াইপিজি বলছে, তাদের সঙ্গে তুরস্কের কুর্দি গোষ্ঠী পিকেকের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওয়াইপিজি বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব যোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তুরস্ক এর মধ্যে আফরিন অঞ্চল বরাবর তাদের সীমান্তে বিপুল সেন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। সেখানে ট্যাংকবহর মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে কুর্দি মিলিশিয়া নেতারা যেকোনো মূল্যে তুরস্কের আক্রমণ প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। তুরস্কের এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। যদিও এই দুই দেশ ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে সামরিক মিত্র।

অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের ওপরও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। আফরিনে রাশিয়ার শত শত সেনা আছে। সেখানকার আকাশসীমা মূলত রুশ বাহিনীই নিয়ন্ত্রণ করে। তবে রাশিয়া যদি তুরস্ককে এই অভিযান চালানোর সবুজ সংকেত দেয়, তাহলে মস্কো এবং আংকারার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হতে পারে।

এই লড়াই আফরিনে বিরাট মানবিক বিপর্যয়ও সৃষ্টি করতে পারে। সেখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বাস। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বলছে, সেখান থেকে লোকজনের পালিয়ে যাওয়ার কোনো খবর তারা এখনো পায়নি। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



মন্তব্য