kalerkantho


মাহমুদ আব্বাস বললেন

ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চপেটাঘাত’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চপেটাঘাত’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনায় ট্রাম্পের উদ্যোগ ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চপেটাঘাত’। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনকে কোনোভাবেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। আব্বাস সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘ ও ইসরায়েলে নিযুক্ত দুই মার্কিন দূতেরও। বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও।

গত মাসের শুরুর দিকে বিতর্কিত জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হুমকির মুখে পড়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যকার সম্ভাব্য দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের পরিকল্পনা। কারণ ইসরায়েলের দখলকৃত জেরুজালেমের একটা বড় অংশকে ভবিষ্যতে নিজেদের রাজধানী বানাতে চায় ফিলিস্তিনও।

ট্রাম্পের ওই ঘোষণা নিয়ে কথা বলতে গত রবিবার রামাল্লায় বৈঠকে বসে ‘প্যালেস্টিনিয়ান সেন্ট্রাল কাউন্সিল’। এই কাউন্সিল ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের’ (পিএলও) উচ্চপর্যায়ের পরিষদ হিসেবে পরিচিত।

বৈঠকে নানা ইস্যুতে দুই ঘণ্টা ধরে বক্তব্য দেন আব্বাস। তিনি বলেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার পর ট্রাম্প শান্তি আলোচনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, “তা শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চপেটাঘাত। আমরা ট্রাম্পকে সরাসরি ‘না’ বলতে চাই। আমরা আপনার উদ্যোগ মেনে নেব না।”

আব্বাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ‘অসলো চুক্তি বলে এখন আর কিছু নেই। তারা (ইসরায়েল) এই চুক্তির ইতি টেনেছে।’ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের দিকে ইঙ্গিত করে এ অভিযোগ তোলেন আব্বাস।

এদিকে জাতিসংঘ ও ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূত ডেভিড ফ্রিডম্যান ও নিকি হ্যালির কঠোর সমালোচনা করেছেন আব্বাস। তিনি বলেন, এই দুজনের ‘আত্মমর্যাদা’ নেই। এই দুই মার্কিন দূতই ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

গতকাল সোমবারও বৈঠকে বসার কথা ‘প্যালেস্টিনিয়ান সেন্ট্রাল কাউন্সিল’-এর। ট্রাম্পের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় নির্ধারণেই মূলত এ বৈঠক ডাকা হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপই বিবেচনায় আছে। এমনিক পিএলও ইসরায়েলকে যে স্বীকৃতি দিয়েছে, সেটিও প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে।

এদিকে বার্তাসংস্থা এপিকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যে অর্থ সহায়তা দেয়, তা আটকে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। যদিও গত মাসে ফিলিস্তিনকে বার্ষিক ৩০ কোটি ডলারের অর্থ সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন ট্রাম্প। জবাবে ফিলিস্তিনি নেতারা বলেছেন, কোনো ধরনের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করে তাঁদের সমঝোতায় বাধ্য করা যাবে না।

নেতানিয়াহু ‘বিব্রত’: ভারত সফররত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে নয়াদিল্লি স্বীকৃতি না দেওয়ায় তিনি বিব্রত হয়েছেন।

গত মাসে জাতিসংঘে ট্রাম্পের ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে ভোট দেয় শতাধিক দেশ। এদের মধ্যে ভারতও আছে। মূলত ওই বিষয়ে গত রবিবার ‘ইন্ডিয়া টুডে’তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমি বিব্রত হয়েছিলাম। তবে আমার এ সফর এটাই প্রমাণ করে যে ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’

 

সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য