kalerkantho


আফ্রিকান ইউনিয়ন বলল

ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে হবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফ্রিকার দেশগুলোকে ‘অত্যন্ত নোংরা জায়গা’ (শিটহোল) বলে মন্তব্য করার পর বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ, খেদ ও নিন্দা প্রকাশ চলছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন এই মন্তব্যের জন্য ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। অনেকেই ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘বর্ণবাদ  ও অজ্ঞতা’ বলে অভিহিত করেছে। ট্রাম্প নিজে অবশ্য গত শুক্রবার এক টুইটে বলেছেন, ‘এই ভাষা ব্যবহার করা হয়নি।’

আফ্রিকার ৫৪টি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) গত শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁর ক্ষুব্ধ, বর্ণবাদী, বিদেশিদের সম্পর্কে অহেতুক ভয় প্রকাশ পেয়েছে।’ ট্রাম্পের মন্তব্যে এইউ অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছে এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের পরপরই সংগঠনটি এক জরুরি বৈঠকে বসে। এইউপ্রধান মুসা ফাকির মুখপাত্র এব্বা কালোনদো বলেন, ‘এই মন্তব্য মার্কিন ভাবমূর্তি এবং বৈচিত্র্য ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাকে অসম্মান করেছে। এই মন্তব্যে আমরা আহত, অপমানিত ও উদ্বিগ্ন হয়েছি। আফ্রিকা মহাদেশ ও এর অধিবাসীদের বিষয়ে বর্তমান (মার্কিন) প্রশাসনের ব্যাপক ভুল-বোঝাবুঝি রয়েছে বলে গভীরভাবে বিশ্বাস করে আফ্রিকান ইউনিয়ন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সংলাপ হওয়া দরকার।’

কালোনদো আরো বলেন, ‘আফ্রিকা থেকে দাস হিসেবে মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হতো, সেই ইতিহাসের চেয়েও এই মন্তব্য ঘৃণ্য। শুধু অভিবাসীদের দিয়ে একটি জাতির জন্ম কী করে হয় তার সবচেয়ে বড় ও ইতিবাচক উদাহরণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘একজন ব্যক্তির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র অনেক বেশি শক্তিশালী।’

তবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার চেয়ে অনেক বেশি সরব ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। টুইটার, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ভরে উঠেছে হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে ‘শিটহোলের’ ব্যবহারে। কেনিয়ার এক লেখক স্ট্যাটাসে বলেন, “হলিউড ও পশ্চিমা গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের ‘গুয়ের দেশের গুয়ের মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে। এর মধ্যে নতুন কিছু নেই।” এক ঘানাবাসী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আমি একদিন আপনাকে শিটহোল দেশ ঘানায় নিয়ে আসব।’ দক্ষিণ আফ্রিকার এক নারী বলেন, ‘আমাদের এভাবে অপমান করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।’    

হোয়াইট হাউসে আইন প্রণেতাদের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের ওই বৈঠক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে। সেখানে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের পাশাপাশি ডেমোক্রেটিক দলের আইন প্রণেতারাও ছিলেন। এ নিয়ে প্রথম খবর ছাপে ওয়াশিংটন পোস্ট। তাদের খবর অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ডুরবিন ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ (টিপিএস) ফের চালু করার কথা বলতে গেলেই চটে যান ট্রাম্প। তিনি হাইতি ও আফ্রিকান দেশগুলোকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমরা কেন এসব ‘শিটহোল’ দেশের জনগণকে যুক্তরাষ্ট্রে রাখব।” এরপর বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একই খবর প্রকাশ করে অন্যান্য পত্রিকা। তবে ট্রাম্পের দাবি, তিনি এ মন্তব্য করেননি।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বতসোয়ানায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কৈফিয়ত চেয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন মন্তব্য করেছেন নিশ্চিত হলে তা ‘অতিশয় বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক’ হবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য