kalerkantho


প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরতে পারেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জলবায়ুবিষয়ক প্যারিস চুক্তিতে ফিরতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাবেক অবস্থান থেকে সরে গত বুধবার এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও গত জুনে তিনি বলেছিলেন, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবিচার করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গকে সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বাস্তবিক অর্থেই হয়তো ফিরব। পরিবেশ নিয়ে আমার গভীর চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘খোলামেলাভাবে বলতে গেলে এই চুক্তি নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে যে চুক্তিতে তারা (ওবামা প্রশাসন) সই করেছে, তা নিয়ে আমার আপত্তি আছে। কারণ তারা বরাবরই বাজে চুক্তি করে।’

২০১৫ সালে যে প্যারিস সমঝোতা হয় তাকে নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাজে হিসেবে’ অভিহিত করে আসছেন ট্রাম্প। তিনি বারবারই বলেছেন, চুক্তিতে থাকতে হলে তা নিয়ে আবারও আলোচনা করে শর্ত পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এই বিষয়গুলো তুলেই গত জুনে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাবে বলে ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ওই ঘোষণার পর পর ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা স্পষ্ট করে জানান, চুক্তির শর্ত পুনর্নির্ধারণ সম্ভব নয়।

জলবায়ু প্রসঙ্গে ট্রাম্প তাঁর অবস্থান সম্পর্কে শুরু থেকেই বলছেন তাঁর নীতি হলো, ‘পরিচ্ছন্ন পানি, পরিচ্ছন্ন বায়ু।’ একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, ‘আমরা চাই, ব্যবসাও অব্যাহত থাকুক।’ ট্রাম্পের দেওয়া হিসাব মতে, প্যারিস চুক্তি কার্যকর করতে হলে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। জিডিপিতে ক্ষতি হবে তিন ট্রিলিয়ন ডলার। চাকরি হারাবে অন্তত ৬৫ লাখ মানুষ। তবে এই হিসাব তিনি কী করে, কোথা থেকে পেলেন সে সম্পর্কে কখনোই কিছু জানাননি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির গবেষক নেইল ভাটিয়া বলেন, ‘প্যারিস চুক্তিতে কী আছে, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন একটি গঠনমূলক সমালোচনা তৈরি করতে পারছে না।’ তিনি বলেন, ‘এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট ছাড় দেওয়া হয়েছে। চুক্তি সইয়ের আগে ওবামা প্রশাসন এর ভাষা নিয়ে প্রচুর কাজ করে। চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পুরোপুরি ঐচ্ছিক। যে কারণে এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন বা আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই।

জিজ্ঞাসাবাদে রাজি নন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে যে তদন্ত চলছে, তাতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের কোনো দরকার নেই। অথচ কয়েক মাস আগেও তিনি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে ‘শতভাগ’ আগ্রহী ছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ তদন্ত করছেন দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা—এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক রবার্ট মুলার। মার্কিন বিচার বিভাগ তাঁকে এই তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

গত জুনে ট্রাম্প বলেন, মুলার জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে তিনি ‘শতভাগ’ রাজি আছেন। এরপর চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের দিনক্ষণ ঠিক করতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা মুলারের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন।

এ অবস্থায় গতকাল পুরো উল্টো কথা বললেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি দেখতে চাই, কী ঘটে। যেখানে রুশ হস্তক্ষেপের কোনো ঘটনা ঘটেনি। হস্তক্ষেপের কোনো আলামত কেউ পায়নি। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার কোনো প্রয়োজন আমি দেখি না।’

মুলারের তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে আছেন ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দলের ম্যানেজার পল ম্যানফর্ট। এ ছাড়া আছেন হোয়াইট হাউসের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। এর আগে মাইকেল ফ্লিন আদালতে স্বীকার করেন, রুশ হস্তক্ষেপ নিয়ে এফবিআইয়ের তদন্তে তিনি মিথ্যা জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

মুলারের ধারণা, নিরপেক্ষ তদন্তের ক্ষেত্রে ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা হস্তক্ষেপ করতে চায়। মূলত এই ধারণা থেকেই অনেকে মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন মুলার। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, দি ইনডিপেনডেন্ট।



মন্তব্য