kalerkantho


দুই কোরিয়ার সংলাপ

দক্ষিণের অলিম্পিকে অংশ নেবে উত্তর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দক্ষিণের অলিম্পিকে অংশ নেবে উত্তর

দক্ষিণ কোরিয়ায় আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নিতে রাজি হয়েছে উত্তর কোরিয়া। দুই বছরেরও বেশি সময় পর গতকাল মঙ্গলবার দুই কোরিয়ার মধ্যকার বৈঠকে নিজেদের সম্মতি জানায় পিয়ংইয়ং। তারা খেলোয়াড়, সমর্থক, পর্যবেক্ষক, সাংবাদিকসহ বড় একটি প্রতিনিধিদল পাঠাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার চলমান উত্তেজনার মধ্যে অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

দুই কোরিয়ার মধ্যকার বিরাজমান বিরোধের মূলে রয়েছে পিয়ংইয়ংয়ের (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী) পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা। একই কারণে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বিরোধ যুক্তরাষ্ট্রেরও। কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মোটামুটি বাগ্যুদ্ধ চলছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বৈঠকে বসেন দুই কোরিয়ার প্রতিনিধিরা।

বৈঠকটি হয় দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজোমে। ওই গ্রামেই দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি সই হয়েছিল। আগামী মাসে সিউলে শীতকালীন অলিম্পিকের যে আসর বসবে, তাতে উত্তর কোরিয়া অংশগ্রহণ করবে কি না, মূলত সেটিই ছিল বৈঠকের মূল বিষয়।

বৈঠক শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার ভাইস ইউনিফিকেশন মিনিস্টার (আন্ত কোরীয় সমন্বয়বিষয়ক উপমন্ত্রী) চুন হায়ে-সাং সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল, জাতীয় অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধিদল, খেলোয়াড়, সমর্থক, শিল্পী, পর্যবেক্ষক, তায়কোয়ান্দো দল ও সাংবাদিক পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।’

বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার সামনে দক্ষিণ কোরিয়া বেশ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে। একটি প্রস্তাবে বলা হয়, ২০০৬ সালের শীতকালীন অলিম্পিকের মতো এবারও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই কোরিয়ার খেলোয়াড়রা একসঙ্গে কুচকাওয়াজে অংশ নেবে। সিউল (দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী) প্রস্তাব দেয়, অলিম্পিক গেমস চলাকালীন দুই কোরিয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা পরিবারের সদস্যদের পুনর্মিলনীও হতে পারে। সামরিক ইস্যুতে দুই কোরিয়ার মধ্যকার সংলাপ ফের শুরু করার প্রস্তাবও দেয় সিউল। বৈঠকে সিউল এও জানায়, তারা পিয়ংইয়ংয়ের ওপর থেকে সাময়িকভাবে কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চিন্তা-ভাবনা করছে।

এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর কোরিয়া কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা তাত্ক্ষণিক জানা যায়নি। বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন রি সন-গওন। দুই কোরিয়ার সম্পর্ক মধ্যস্থতার জন্য পিয়ংইয়ংয়ের যে সংস্থা রয়েছে, সন-গওন সেটির প্রধান। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তাদের আন্ত কোরীয় সমন্বয়বিষয়ক মন্ত্রী চো মিয়ং-গিওন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, সপ্তাহখানেক আগেও পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। সেখানে গতকালের বৈঠক এবং বৈঠকের ফলাফল ‘নাটকীয়’ এক পরিবর্তন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার বেশির ভাগ মানুষেরই বিশ্বাস, অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করলেও উন তাঁর মৌলিক অবস্থান থেকে সরবেন না।

অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, কয়েক মাস ধরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে উনের মধ্যে এক ধরনের ভয় ঢুকে গিয়েছিল। তাঁর আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এ কারণে উত্তেজনা খানিকটা কমানোর কৌশল হিসেবে অলিম্পিকে অংশগ্রহণে সম্মত হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার তোলা প্রস্তাব দেখে অনেকের ধারণা, অলিম্পিকের অসিলায় তারা দুই কোরিয়ার মধ্যকার মূল সংকট নিয়েও সংলাপ শুরুর চেষ্টায় আছে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।



মন্তব্য