kalerkantho


চীন সফরে ম্যাখোঁ

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ইউরোপ-চীন ঐক্য চাই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ইউরোপ-চীন ঐক্য চাই

সস্ত্রীক ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও শি চিনপিং ছবি : এএফপি

ইউরোপ ও চীনকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। চীনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করার আগে এ আহ্বান জানান ম্যাখোঁ। গতকাল সোমবার চীনে পৌঁছার মধ্য দিয়ে ম্যাখোঁর এই সফর শুরু হয়েছে। জলবায়ু নিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের ঐক্য ম্যাখোঁ এমন একসময়ে চাইলেন, যখন প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এ ছাড়া ম্যাখোঁ এশিয়া-ইউরোপ সংযোগকারী চীনের বিশাল প্রকল্প সিল্ক রোডে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁর মহাদেশের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শিয়ান শহরে দেওয়া এক ভাষণে ম্যাখোঁ আরো বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ একই সুতায় গাঁথা।’ চীন-ফ্রান্স সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দেওয়া এ ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতের ফ্রান্স, ইউরোপ ও চীনকে প্রয়োজন।’ সঙ্গে আরো যোগ করেন, তিনি প্রতিবছর অন্তত একবার চীন সফরে আসতে চান।

শিয়ান দিয়েই চীন সফর শুরু করলেন ম্যাখোঁ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের তিন ট্রিলিয়ন ডলারের প্রকল্প সিল্ক রোডের প্রতি সমর্থন প্রকাশ তাঁর এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। একসময় কাপড়, মসলা পরিবহনের জন্য এই সিল্ক রুটের বিশেষ পরিচিতি ছিল।

সফর শুরুর আগে চীনের সংবাদ পোর্টাল চায়না ডট অর্গানাইজেশন ডট সিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাখোঁ আরো বলেন, ‘অতীতে সিল্ক রুট সংস্কৃতি বিনিময়ে একটি বড় ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান প্রকল্পটিও সেতু তৈরিতে সত্যিকারের সুযোগ তৈরি করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউরোপ ও চীন পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্স নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।’ চীন ও ফ্রান্সের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে ম্যাঁখো বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে কাঠামো তৈরি করতে হবে অংশীদারির ভারসাম্য বজায় রেখে।’ ম্যাখোঁর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ব্রিজিতও রয়েছেন।

ঘোড়া কূটনীতি প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের জন্য উপহার হিসেবে একটি ঘোড়া চীনে পাঠিয়েছেন ম্যাখোঁ। ফ্রান্সের রিপাবলিকান গার্ডের অবসরপ্রাপ্ত এই ঘোড়াটির নাম ভেসুভে দ্য ব্রেক্কা। আট বছর বয়সী এই ঘোড়া শেষবার মাঠে নেমেছে গত নভেম্বরে। গতকাল রাতে সাক্ষাতের সময় ঘোড়ার একটি ছবি চিনপিংয়ের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল ম্যাখোঁর। ব্রেক্কা অবশ্য দিনতিনেক আগেই পৌঁছে গেছে চীনে। ব্রেক্কাকে বর্ণনা করা হচ্ছে উপহারের চেয়েও বেশি কিছু, কূটনৈতিক শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে। বলা হচ্ছে, পেইচিংয়ের পাণ্ডা কূটনীতির যথাযথ সাড়া হচ্ছে ঘোড়া কূটনীতি। সূত্র : এএফপি।

 



মন্তব্য