kalerkantho


বিক্ষোভ নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ইরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে ঘটে যাওয়া বিক্ষোভে গ্রেপ্তার প্রায় ৯০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করেছে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া গত সপ্তাহের ওই বিক্ষোভ নিয়ে গতকাল রবিবার ইরানের পার্লামেন্ট রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে।

সংসদ সদস্য মাহমুদ সাদেগির বরাত দিয়ে গত শনিবার ইরানের লেবার সংবাদ সংস্থা জানায়, বিক্ষোভকালে গ্রেপ্তার সহস্রাধিক মানুষের মধ্যে প্রায় ৯০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শিক্ষার্থী রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং বাকিরা অন্যান্য শহরের। দেশের কোন নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করেছে এবং গ্রেপ্তারের পর তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, সেটা এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি বলে জানান সাদেগি। ইরানে বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং এসব বাহিনীর গ্রেপ্তার কার্যক্রমের তথ্য প্রায় ক্ষেত্রে অঘোষিত থেকে যায়।

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কার্যক্রমে ফেরাতে এবং স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে কমিটি গঠন করেছে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাজিদ সারসাঙ্গির উদ্ধৃতি দিয়ে ইরানি শিক্ষার্থীদের সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানায়।

এদিকে পার্লামেন্টের ওয়েবসাইট আইসিএএনএ জানায়, গত সপ্তাহের বিক্ষোভ নিয়ে আইন প্রণেতারা গতকাল রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুলরাহমানি রাহমানি ফাজলি, গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী মাহমুদ আলাভি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী শামখানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তাঁরা। আইন প্রণেতাদের কেউ কেউ বার্তা আদান-প্রদানের জনপ্রিয় অ্যাপ টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করাসহ ইন্টারনেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ওপর জোর দেন। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী হওয়া বিক্ষোভে উসকানি জোগাতে ভূমিকা রেখেছিল টেলিগ্রাম। আট কোটির বেশি ইরানি জনগণের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতিদিন টেলিগ্রাম ব্যবহার করে। অনেক ইরানির সংবাদের প্রধান উৎস টেলিগ্রাম।

ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ এক সপ্তাহের মাথায় থিতিয়ে যাওয়ার পর রাজধানীসহ অন্যান্য শহরের রাস্তায় নামে সরকার সমর্থকরা। গতকালও তারা কাজভিন, রাশৎ, শাহর ই কুর্দ ও ইয়াজদ শহরে মিছিল করে। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের সংবাদে বলা হয়, ‘দাঙ্গাকারী, সংকট সৃষ্টিকারী এবং এসবের সমর্থনকারীদের কর্মকাণ্ডের জবাবে এসব মিছিল হচ্ছে।’

ইরানের এ সংকটের ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকা যুক্তরাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিনের মুখপাত্র এমিলি থর্নবেরি বলেন, ইরানের পরিস্থিতি ‘একদম ভিন্ন ধরনের’ এবং এ ব্যাপারে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে ‘চরম সতর্কতা’ অবলম্বন করছে করবিনের দল। ইরানের ব্যাপারে করবিনের মৌনতা ব্রিটেনে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল থর্নবেরি বলেন, ইরানের ওই বিক্ষোভে কোনো পক্ষের ইন্ধন রয়েছে, সেটা বোঝা খুব কঠিন ব্যাপার বলে খুব সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য