kalerkantho


উনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহী ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



উনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে আগ্রহী ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে ‘মারমুখী’ স্বর খানিকটা নরম করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শনিবার তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেও তিনি আগ্রহী। সঙ্গে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আগামীকালের দুই কোরিয়ার মধ্যকার ‘বিরল’ আলোচনার সাফল্য নিয়েও।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটন ও সিউলের (দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী) বিরোধ চলছে। কয়েক মাস ধরে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও উনের মধ্যে মোটামুটি বাগ্যুদ্ধ চলছে। কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যেও আগামীকাল মঙ্গলবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন দুই কোরিয়ার কর্মকর্তারা। দুই বছরেরও বেশি সময় পর তাঁদের মধ্যে এ বৈঠক হতে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে গত শনিবার ক্যাম্প ডেভিডে (মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবকাশকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন ট্রাম্প। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, উনের সঙ্গে তিনি কখনো কথা বলবেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সব সময় আলোচনায় বিশ্বাসী। আমি অবশ্যই তাঁর (উন) সঙ্গে কথা বলতে চাই। কথা বলতে আমার কোনো সমস্যা নেই।’ তবে ট্রাম্প এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন, উনের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে অবশ্যই পূর্বশর্ত থাকবে।

আগামী ৯ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে বসবে শীতকালীন অলিম্পিকের আসর। তাতে অংশগ্রহণের ব্যাপারে পিয়ংইয়ংয়ের (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী) মনোভাব এখন পর্যন্ত ইতিবাচক। আগামীকালের বৈঠকে মূলত এ ব্যাপারেই কথা বলবেন দুই কোরিয়ার কর্মকর্তারা। বৈঠকটি হবে দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজোমে। ওই গ্রামটিতেই দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি সই হয়েছিল।

আগামীকালের সম্ভাব্য আলোচনার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই, দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনা অলিম্পিকের পরও অব্যাহত থাকুক। আর আগামীকালের আলোচনা ফলপ্রসূ হলে তা হবে সমগ্র মানবজাতির জন্য বড় একটা প্রাপ্তি।’

আগামীকালের বৈঠকের জন্য পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নাম ঘোষণা করেছে পিয়ংইয়ং। সিউল জানিয়েছে, রি সন-গওন ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। দুই কোরিয়ার সম্পর্ক মধ্যস্থতার জন্য পিয়ংইয়ংয়ের যে সংস্থা রয়েছে, সন-গওন সেটির প্রধান। প্রতিনিধিদলের বাকি সদস্যরা ক্রীড়া বিভাগের কর্মকর্তা।

 

এর আগে নতুন বছরের শুভেচ্ছাবার্তায় কিম জং উন আসন্ন শীতকালীন অলিম্পিকের সাফল্য কামনা করেছেন। সঙ্গে জানিয়েছেন, অলিম্পিকে দল পাঠানোর চিন্তা-ভাবনা তাঁর রয়েছে। অন্যদিকে অলিম্পিক গেমস শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন ও সিউল। যেসব বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার আপত্তি, সেগুলোর মধ্যে এই যৌথ সামরিক মহড়া অন্যতম।

সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য