kalerkantho


প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরে তেল-গ্যাস খুঁজবে যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরের সংরক্ষিত এলাকায় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ সম্পর্কিত একটি পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছে। পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্প মতে, ক্যালিফোর্নিয়া, মেইনসহ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে মহাসাগরীয় এলাকায় এ অনুসন্ধান চালানো হবে। কয়েক দশক ধরে এসব এলাকায় অনুসন্ধান কাজ নিষিদ্ধ ছিল। পরিবেশবাদীরা এ প্রকল্পের বিরোধিতা করছে।

পরিকল্পনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এটা স্থানীয় গ্যাস ও তেল উৎপাদনকে সমৃদ্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রায়ান জিংক বৃহস্পতিবার পরিকল্পনার বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এটা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। জ্বালানি খাতে দুর্বলতা ও আধিপত্যের মধ্যে যে স্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে তা এর মধ্য দিয়ে দূর হবে। আমরা খনিজ শক্তিতে সুপারপাওয়ার হতে যাচ্ছি।’

এ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য ড্রাফট ফাইভ ইয়ার আউটার কনটিনেন্টাল সেলফ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস লিজিং প্রগ্রাম’। কয়েক দশকের মধ্যে এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল অনুসন্ধান প্রকল্প। ৬০টি পরিবেশবাদী গ্রুপের একটি জোট এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। এই দলে বেশ কয়েকজন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং শতাধিক আইন প্রণেতাও রয়েছেন। বিভিন্ন পরিবেশবাদী দলের সদস্যদের স্বাক্ষর করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মহাসাগরের এই পানি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত খেলার মাঠ নয়। সব আমেরিকান এই মহাসাগরের মালিক এবং সবাই এটাকে সংরক্ষিত দেখতে চায়। তেল কম্পানির কাছে এটা বিক্রি হোক তা কেউ চায় না।’

নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্রেটিক সিনেটর ম্যাগি হাসান সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সাগরে অনুসদ্ধান বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়েছে। মেরিল্যান্ড, সাউথ ক্যারোলাইনা এবং ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নররা এই অনুসন্ধানের বিরোধিতা করেছেন। ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সর্বশেষ পরিকল্পনার বিষয়ে আমার উদ্বেগের ব্যাপারে আলোচনার জন্য জিংকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব। ফ্লোরিডার প্রাকৃতিক সম্পদ যে সংরক্ষিত সেটা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান কাজ। এ কারণে এ বছরে পরিবেশের জন্য আমি ১০০ কোটি ৭০ লাখ ডলার প্রস্তাব করেছি।’

এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন এবং ওয়াশিংটনের ডেমোক্রেটিক গভর্নররা যৌথ বিবৃতিতে এই পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে আর অনুসন্ধান না করার জন্য ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি সংরক্ষিত রয়েছে। এটা বন্ধ করার জন্য যা দরকার তাই আমরা করব।

সাগরে তেল ও গ্যাস খনিজ অনুসন্ধানে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আইনকে গত এপ্রিলে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাহী আদেশে পুনর্বিবেচনা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নতুন এই পরিকল্পনা এখনই কার্যকর হবে না, কেননা বিভিন্ন রাজ্য থেকে এর বিরোধিতা করা হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই বিষয়টা উঠে এসেছে জিংকের বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, ‘এখনই কোনো কিছু চূড়ান্ত করা হয়নি। চূড়ান্ত রায় পাওয়ার জন্য আমাদের বিভাগ এ ব্যাপারে আমেরিকান নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে।’ সূত্র : রয়টার্স।



মন্তব্য