kalerkantho


শান্তি ও সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত

অবশেষে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে দুই কোরিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিরতি গ্রাম বলে বিবেচিত পানমুনজমে ওই বৈঠক হবে। বৈঠকটি হলে তা হবে গত দুই বছরের মধ্যে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের প্রথম বৈঠক। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে আলোচনা হবে বলে গতকাল শুক্রবার আশা প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে গতকাল সংবাদমাধ্যম জানায়, ৯ জানুয়ারির ওই বৈঠকে মূলত শীতকালীন অলিম্পিক গেমসে উত্তর কোরিয়ার প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণের পথ খুঁজে বের করতে আলোচনা হবে। ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় পিয়ংচ্যাংয়ে শীতকালীন অলিম্পিক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন অলিম্পিকে প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, অলিম্পিক ‘একতা প্রকাশের চমৎকার একটি সুযোগ’। তার পরই এ বিষয়ে কথা বলতে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। ওই প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়া রাজি হয়েছে বলে জানান দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা। তাঁদের যোগাযোগের জন্য এরই মধ্যে টেলিফোনে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে।

সীমান্তবর্তী যুদ্ধবিরতি গ্রাম পানমুনজমে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজে) পানমুনজমের সুরক্ষায় দুই দেশের প্রচুর সেনা মোতায়েন করা আছে এবং দুই প্রতিবেশীর বড় ধরনের বৈঠকগুলো এখানেই অনুষ্ঠিত হয়। অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরের পর এটাই দুই কোরিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের প্রথম বৈঠক হতে যাচ্ছে। যদিও বৈঠকে কারা অংশ নেবেন তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। এর আগে কায়েসং শিল্প এলাকায় দুই কোরিয়ার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে দক্ষিণের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় উত্তর কোরিয়া।

আগামী সপ্তাহের বৈঠকের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন বলেন, ‘অতিরিক্ত মাত্রায় আশাবাদী’ হওয়া ‘উচিত হবে না’। তবে ‘আমরা পিয়ংচ্যাং অলিম্পিককে শান্তির অলিম্পিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং পরমাণু ইস্যুটিকে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা চালাব।’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি।



মন্তব্য