kalerkantho


বিতর্কিত ‘ক্ষমায়’ মুক্তি পেলেন ফুজিমোরি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিতর্কিত ‘ক্ষমায়’ মুক্তি পেলেন ফুজিমোরি

প্রেসিডেন্ট পেদ্রো পাবলো কুজিনস্কির ‘বিতর্কিত ক্ষমায়’ মুক্তি পেলেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কারাভোগকারী পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি। বৃহস্পতিবার দিন শেষে দেশটির রাজধানী লিমার একটি হাসপাতাল থেকে হুইলচেয়ারে বেরিয়ে আসেন ৭৯ বছর বয়সী ফুজিমোরি। তাঁর ছেলে দেশটির অন্যতম আইন প্রণেতা কেনজি ফুজিমোরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে এ তথ্য জানান।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই প্রেসিডেন্ট ফুজিমোরিকে মুক্তি দিয়েছেন কুজিনস্কি। এই মুক্তির ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির নোবেলজয়ী লেখকসহ অনেক বুদ্ধিজীবী।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ ফুজিমোরিকে হুইলচেয়ারে করে লিমা সেনটেনারিও ক্লিনিক থেকে বাইরে নিয়ে আসছেন ছেলে কেনজি। এ সময় তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে একটি গাড়িবহরের সাহায্যে সাবেক ওই নেতাকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। টুইটারে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কেনজিকে তাঁর বাবার সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল ও দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়াতে দেখা যায়। ফুজিমোরির ব্যক্তিগত চিকিৎসক আলেহান্দ্রো আগুইনাগা জানান, মুক্তির পরপরই ছেলের সঙ্গে তাঁর ওই ছবিগুলো তোলা হয়েছে। এখন তিনি ‘আবেগপূর্ণ একটি মুহূর্তে’ বাকি চার সন্তানের সঙ্গে দেখা করবেন।

১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এই নেতা। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় ২৫ সমর্থককে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়। পরে ২০০৯ সালে দেশটির একটি আদালত তাঁকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। কিন্তু ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত ২৪ ডিসেম্বর কুজিনস্কি সরকার মানবিক কারণ বিবেচনায় নিয়ে ফুজিমোরিকে কারামুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই প্রতিবাদে দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। পরে বিক্ষোভ ও সমালোচনার জেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দেশটির প্রতিরক্ষা, সংস্কৃতিমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন জানায়, রাজনৈতিক কারণেই এই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে সরকার ফুজিমোরি সরকারের হাতে অত্যাচারিত লোকজনের মুখে আঘাত করল। ধারণা করা হচ্ছে, কংগ্রেসে অভিশংসন প্রক্রিয়া আটকাতেই ফুজিমোরিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কুজিনস্কি। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য