kalerkantho


ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি

সক্ষমতা নিয়ে নতুন কাঠগড়ায় ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সক্ষমতা নিয়ে নতুন কাঠগড়ায় ট্রাম্প

সাংবাদিক মাইকেল উলফের লেখা বই ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি : ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বইটি প্রকাশের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে তাঁর ব্যক্তিত্ব নিয়ে। বইটি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ প্রমাণে নানা চেষ্টা চালাচ্ছেন খোদ ট্রাম্প, তাঁর পরিবারের সদস্য, হোয়াইট হাউস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা। এমনকি বইটির প্রকাশনা বন্ধের চেষ্টাও করেন তাঁর আইনজীবীরা। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। বরং হিতে বিপরীত হয়েছে। আইনি জটিলতা এড়াতে নির্ধারিত সময়ের আগেই বইটি বাজারে ছেড়েছে এর প্রকাশনা সংস্থা।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দুই শতাধিক সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে বইটি লিখেছেন মাইকেল উলফ। সাক্ষাৎকারদাতাদের অনেকেই একসময় ট্রাম্পের কাছের মানুষ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রেসিডেন্টের সাবেক ‘চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট’ স্টিভ ব্যাননও আছেন, যিনি গত আগস্টে হোয়াইট হাউস ছাড়েন।

বইটিতে ট্রাম্প সম্পর্কে মোটা দাগে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে। যেমন—জয়ের পর বেশ দ্বিধায় পড়ে যান ট্রাম্প। ফল ঘোষণার আগ পর্যন্তও ট্রাম্পের পরিবার তাঁর জয়ের ব্যাপারে নেতিবাচক ছিল। হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালন করা নিয়েও ভয় কাজ করে ট্রাম্পের মধ্যে। বইয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের ছেলে কয়েকজন রুশ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। এমনকি বইটিতে এ কথাও উঠে এসেছে যে নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্পের মেয়ে ইভাংকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।

বইটি প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল আগামী মঙ্গলবার। কিন্তু সম্ভাব্য আইনি প্রতিবন্ধকতা এড়াতে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই সেটি বাজারে ছাড়া হয়। কারণ, বইটির প্রকাশনা ঠেকাতে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশক স্টিভ রুবিনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান ট্রাম্পের আইনজীবীরা। একই নোটিশ পাঠানো হয় স্টিভ ব্যাননকেও।

বইটি সম্পর্কে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সমালোচনা করেছেন লেখক উলফ ও ব্যাননেরও। বৃহস্পতিবার এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি ডাহা মিথ্যা ওই বইটির লেখককে একবারও হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দিইনি। বইয়ের ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে আমার কখনো কোনো কথাও হয়নি। পুরোটাই মিথ্যা কথা। আর যাঁদের বরাত দিয়ে বইটি লেখা হয়েছে, বর্তমানে তাঁরা কার্যত অস্তিত্বহীন।’ বইসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প আরো লেখেন, ‘আপনি এদের অতীত দেখুন।’

গত বুধবার এক রেডিও অনুষ্ঠানে কথা প্রসঙ্গে ট্রাম্পের প্রশংসা করেন ব্যানন। এ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (ব্যানন) আমাকে গত রাতেও মহান ব্যক্তি হিসেবে প্রশংসা করেছেন। যদিও তিনি মুহূর্তেই নিজের সুর পাল্টাতে পারেন।’

মাইকেল উলফকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা লেখেন, ‘আপনার বইয়ে পরনিন্দার মাধ্যমে মানহানির ঘটনা ঘটেছে। মানহানি হয়েছে কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আঘাত হানার মধ্য দিয়েও।’ ব্যাননকে উদ্ধৃতি করে যেসব কথা বইয়ে লেখা হয়েছে, তা ব্যাননের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের পেশাগত চুক্তির লঙ্ঘন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন আইনজীবীরা।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, ‘যে লেখককে গতকালও কেউ চিনত না, কিংবা যাঁরা হোয়াইট হাউস থেকে অতীত হয়ে গেছে, তাঁদের কথা কোনো মার্কিন নাগরিক আমলে নেবে বলে আমার মনে হয় না।’

ব্যানন বর্তমানে ‘ব্রেইবার্ট নিউজ’-এ কর্মরত আছেন। সেখান থেকে তাঁকে যেন বহিষ্কার করা হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন স্যান্ডার্স।

বইটির সব বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বিবিসির উত্তর আমেরিকা সংস্করণের সম্পাদক জন সোপেল মনে করেন, বইটির অর্ধেক কথা সত্য হলেও ধরে নিতে হবে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউস একটা ‘বিশৃঙ্খল’ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।

অনেকেই বইটিকে দেখছেন ট্রাম্প এবং ব্যাননের শত্রুতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। তবে বইটি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার বড় জায়গাও সৃষ্টি করে দিয়েছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



মন্তব্য