kalerkantho


সেনাবাহিনীর উদ্দেশে শি চিনপিং

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাক মৃত্যুকে ভয় করো না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাক মৃত্যুকে ভয় করো না

সমরাস্ত্র পরিদর্শনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং সে দেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশ রক্ষায় মৃত্যুকে ভয় না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে গত বুধবার উত্তরাঞ্চলের হেবেই প্রদেশে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সেন্ট্রাল থিয়েটার কমান্ড পরিদর্শনের সময় তিনি এই আহ্বান জানান।

সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে চিনপিং বলেন, ‘চীনের সেনাবাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম বা মৃত্যুর ভয় থাকা উচিত নয়।’

প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং পিএলএকে উচ্চ প্রযুক্তির যুদ্ধাস্ত্রের বিষয়ে গবেষণা জোরদার এবং প্রকৃত যুদ্ধের অনুশীলন করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে সিনহুয়া জানিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘এমন অভিজাত এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনী তৈরি করো যারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে। নতুন যুগে দল এবং দেশের মানুষ তাদের ওপর যে দায়িত্ব ন্যস্ত করে তা পালনে যেন সিদ্ধহস্ত হয়।

গত অক্টোবরে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসের মাধ্যমে শি চিনপিং চীনের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতার অধিকারী হন। কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের প্রধান হিসেবে শি চিনপিং চীনের ২০ লাখেরও বেশি সেনা সদস্যের কমান্ডার-ইন-চিফ তিনি। এই প্রথম তিনি দেশের পুরো সেনাবাহিনীর উদ্দেশে ভাষণ দেন। চীনের অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা হাজার হাজার সেনা প্রেসিডেন্টের ভাষণ শোনার জন্য তাঁদের নিজ নিজ আস্তানায় উপস্থিত হয়েছিলেন।

২০১২ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চীনকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগী হন শি চিনপিং। চীনের সেনাবাহিনীকে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বমানে উন্নীত করার কথাও জানিয়েছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে।

চীনের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার এই কার্যক্রম প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শি চিনপিং সরাসরি যুদ্ধের মোকাবেলায় গিয়ে চীনের অপরীক্ষিত নতুন অস্ত্রকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন।

একটা সময় অস্ত্র ক্ষমতায় চীন পিছিয়ে থাকলেও সে দেশের সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণে এশিয়ার অন্যান্য শক্তিশালী দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা দাবি করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে চীন। পূর্ব চীন সাগর নিয়ে জাপানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। হিমালয় অঞ্চলে ভারতের সঙ্গেও সম্পর্কটা স্বস্তিদায়ক নয়। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য