kalerkantho


ইরানে বিক্ষোভ চলছে আরো ৯ জন নিহত

অস্থিতিশীলতার জন্য ‘শত্রুর জোট’ দায়ী : খামেনি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যসহ আরো ৯ জন নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে চলা বিক্ষোভে এ নিয়ে দেশটিতে ২১ জনের প্রাণহানি ঘটল। রাজধানী তেহরানে শনিবার থেকে গতকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৫০ জনকে। চলমান অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ‘জোটবদ্ধ শত্রুদের’ দায়ী করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

ইরানে পাঁচ দিন ধরে চলমান এ অস্থিতিশীলতায় উদ্বেগ জানিয়েছে প্রতিবেশী তুরস্ক। এ ছাড়া উপসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন তার নাগরিকদের প্রতি ইরানে ভ্রমণ এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। আর বিক্ষোভকারীদের বাহবা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে গতকাল মঙ্গলবার জানানো হয়, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গত সোমবার দিবাগত রাতে ৯ জন নিহত হয়। এর মধ্যে মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশে কাহদেরিজান এলাকার পুলিশ স্টেশনে হামলাকালে ছয় বিক্ষোভকারী নিহত হয়। একই প্রদেশের অন্য তিনটি শহরে সহিংসতায় রেভল্যুশনারি গার্ডের এক তরুণ সদস্য, এক পুলিশ সদস্য ও এক পথিক প্রাণ হারায়। গত বৃহস্পতিবার থেকে চলা বিক্ষোভে এ নিয়ে ২১ জনের প্রাণহানি ঘটল।

গত সোমবার ইসফাহান প্রদেশে ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ছাড়া রাজধানী তেহরানে গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানীতে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া তৎপরতা বজায় রয়েছে।

গতকাল রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের ধর্মীয় নেতা খামেনি বলেন, ‘শত্রুরা জোট বেঁধেছে এবং ইসলামী শাসনব্যবস্থায় সমস্যা সৃষ্টির জন্য তারা সব রকম উপায়, অর্থ, অস্ত্র, নীতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করছে। অনুপ্রবেশ করে ইরানি জাতির ওপর হামলা চালানোর জন্য শত্রুপক্ষ একটা সুযোগ আর যেকোনো ফাঁকফোকর খুঁজে চলেছে।’

ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল করা টুইটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘নৃশংস ও দুর্নীতিগ্রস্ত ইরানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইরানের জনতা শেষ পর্যন্ত জেগেছে। (যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক) প্রেসিডেন্ট ওবামা বোকার মতো যে অর্থ তাদের দিয়েছে, তার সবটাই সন্ত্রাসবাদের পেছনে আর তাদের পকেটে গেছে। মানুষের কাছে খাবার খুব কম, আছে বড় রকমের মুদ্রাস্ফীতি, তাদের কোনো মানবাধিকার নেই। যুক্তরাষ্ট্র দেখছে।’ এর আগের দিনের টুইটে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘(ইরানে) পরিবর্তনের সময় এসেছে।’

ট্রাম্পের এ টুইটের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম ঘাসেমি বলেন, ‘অন্যান্য দেশের উদ্দেশে অনর্থক আর অপমানজনক টুইট করে তাঁর সময় নষ্ট করার পরিবর্তে নিজের দেশে ঘটে যাওয়া ডজন ডজন হত্যাকাণ্ড এবং লাখ লাখ গৃহহীন আর ক্ষুধার্ত মানুষসহ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নজর দেওয়াই তাঁর জন্য অধিকতর ভালো হবে।’

এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইরানে বিক্ষোভের খবরে তুরস্ক উদ্বিগ্ন।’ ইরানকে ‘বন্ধুপ্রতিম ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ দেশ উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইরানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা তুরস্কের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সোমবার টুইটারে দেওয়া বিবৃতিতে ‘কোনো অবস্থায়ই’ তাদের নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানায়। ইরানে অবস্থানরত বাহরাইনিদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের আহ্বানও জানায় মন্ত্রণালয়।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার ইরানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মাসহাদ শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুতই তা দেশের অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। ২০০৯ সালের পর ইরানে এটাই বড় ধরনের বিক্ষোভ বলে মন্তব্য করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যগুলো।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যরা এখনো সরাসরি অংশ নেননি। বাহিনীর মুখপাত্র জানান, সরকার এখনো এ ব্যাপারে তাঁদের কিছু বলেনি। বাহিনীর স্থানীয় এক শাখার ডেপুটি কমান্ডার এসমাইল কাওসারি অবশ্য বলেন, ‘তেহরানে আমরা অনিরাপদ পরিস্থিতি কোনোভাবেই চলতে দেব না। এ অবস্থা যদি চলতেই থাকে তবে সেটার ইতি ঘটাতে কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য