kalerkantho


জেরুজালেম আইন আরো শক্ত করল ইসরায়েল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত এলাকাগুলো ইসরায়েলের কোনো ভবিষ্যৎ সরকার যেন ফিলিস্তিনের কাছে হস্তান্তর করতে না পারে, সে ব্যবস্থা গতকাল মঙ্গলবার আরো পাকাপোক্ত করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট। তারা এমন একটি আইন করেছে যাতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে তেমনটি করতে চাইলে অবশ্যই বিষয়টি পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস করাতে হবে।

এদিকে পশ্চিম তীরের একটা বড় অংশকে ইসরায়েলে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সরকারকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দলের সমর্থন দেওয়ার বিষয়টির নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

ভবিষ্যতে জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি এলাকাগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা যেন কঠিন হয়, সে জন্য গতকাল ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ৬৪-৫১ ভোটে একটি আইন পাস করা হয়েছে। এ আইনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের কোনো সরকার জেরুজালেমের কোনো অংশ ভবিষ্যতে ছাড়তে চাইলে অবশ্যই সে-সংক্রান্ত বিষয়টি নেসেটে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস করাতে হবে। অর্থাৎ ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে কমপক্ষে ৮০টি ভোটে বিষয়টি অনুমোদন করাতে হবে।

ইসরায়েল শুধু জেরুজালেমে ভূমি হস্তান্তর আইন কঠোর করেছে তা-ই নয়, ১৯৬৭ সালে অধিকৃত পশ্চিম তীরকেও নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে। গত রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি পশ্চিম তীরকে একীভূতকরণ-সংক্রান্ত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। পশ্চিম তীরে স্থাপিত ইহুদি বসতির এলাকাগুলো একীভূতকরণের পাশাপাশি ইহুদি বসতি স্থাপন প্রক্রিয়া আরো বিস্তৃত করার পক্ষেও কথা বলেছে ওই কমিটি।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গত সোমবার লিকুদ পার্টির এ কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমি আশা করি, এ ভোট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দেবে যে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনপ্রাপ্ত ইসরায়েল শান্তির প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়। বরং তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনজুড়ে তাদের বর্ণবাদী শাসন কায়েম করা।’

পশ্চিম তীর আর জেরুজালেমে দখল পাকাপোক্ত করতে আইন জোরদারের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আইনিপ্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। দুই ইসরায়েলি সেনাকে প্রহারের দায়ে ফিলিস্তিনি ষোড়শী আহেদ তামিমির বিরুদ্ধে গত সোমবার ১২টি অভিযোগ করেছে ইসরায়েলের সামরিক আদালত। অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর মা ও কাজিনের বিরুদ্ধেও। এদিকে ফিলিস্তিনের পার্লামেন্টের নারী সদস্য খালিদা জারারের কোনো রকম বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়াই গতকাল তাঁর কারাভোগের মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য