kalerkantho


ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর

পাকিস্তানে সাড়ে ২৫ কোটি ডলারের সহায়তা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাকিস্তানে সাড়ে ২৫ কোটি ডলারের সহায়তা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানকে সাড়ে ২৫ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা যুক্তরাষ্ট্র স্থগিত করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বছরের প্রথম দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সমালোচনা করে টুইট করার পর ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, হোয়াইট হাউস ওই সহায়তা আপাতত বন্ধ রাখার খবর নিশ্চিত করে বলেছে, এ সহায়তা ছাড় করা নির্ভর করছে পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর।

বছরের প্রথম দিন টুইটার বার্তায় পাকিস্তানকে বিদ্ধ করার পরপরই ট্রাম্পের নেওয়া এ সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগগুলো শুধুই কথার কথা ছিল না। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য ও সিদ্ধান্তে অসন্তোষ গোপন করেনি ক্ষুব্ধ পাকিস্তানও। ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানের মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলবের ঘটনা নিকট অতীতে নেই।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য গতকাল মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রিসভা এবং জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।

পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই ভালো যাচ্ছে না। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সম্পর্কের তিক্ততা আরো বেড়েছে। সামরিক ত্রাণ নিয়ে বেশ কয়েক মাস থেকেই ইসলামাবাদকে চাপের মধ্যে রেখে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্পসহ তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষেরা। গত সোমবার দেওয়া এ বছরের প্রথম টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘১৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিথ্যাচার ও শঠতা করে চলেছে পাকিস্তান। সামরিক ও অন্যান্য সাহায্য হিসেবে ওই সময় পাকিস্তানকে যে তিন হাজার ৩০০ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে তার বেশির ভাগই ইসলামাবাদ খরচ করেছে জঙ্গিদের তোষণে বা তাদের অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করতে। মার্কিন নেতাদের বোকা ভেবে তাঁদের ধোঁকা দিয়ে গেছে ইসলামাবাদ।’

ট্রাম্পের এই ঝাঁজালো টুইটের পরপরই ক্ষোভ ঝেড়েছে পাকিস্তানও। সোমবারই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ জিয়ো টেলিভিশনকে বলেন, ‘আফগানিস্তানে পরাজয়ের ক্ষোভেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের পাশে ছিল। ১৬ বছর ধরে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদাকে ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান তার নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়েছে। তার আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিয়েছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে কার্পণ্য হয়নি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও। এর পরিবর্তে তাদের কাছ থেকে আমরা পেয়েছি শুধুই অসম্মানসূচক মন্তব্য ও অবিশ্বাস।’

এর পরপরই মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড হ্যালেকে ডেকে পাঠানো হয়। ওই দিনই তিনি মন্ত্রণালয়ে যান বলে মার্কিন দূতাবাসের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন। তবে তাঁর তলবের কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি মুখপাত্র। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।

টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম গতকাল মঙ্গলবার জানায়, পাকিস্তান বিষয়ে ট্রাম্পের কড়া টুইটের দিনই সামরিক সহায়তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হোয়াইট হাউস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, এই সহায়তার ভবিষ্যৎ কী হবে তা নির্ভর করছে নিজ ভূমিতে সন্ত্রাস দমনে ইসলামাবাদ কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে তার ওপর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আর্থিক বছর ২০১৬ সালে পাকিস্তানের জন্য বিদেশি সামরিক অর্থায়নের যে ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রয়েছে তা খরচের পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের।’

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলা হওয়ার পর যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হয় তাতে ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান মিত্র ছিল ইসলামাবাদ। এর কয়েক বছরের মধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ ওঠে। ট্রাম্প এ নিয়ে সরব হন গত আগস্ট থেকে। জানুয়ারিতে পৌঁছে মুখের কথায় না থেকে ব্যবস্থা নিলেন তিনি। সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।



মন্তব্য