kalerkantho


রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদন

হাফিজ সাঈদের সম্পদ জব্দ করছে পাকিস্তান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ইসলামী উগ্রপন্থী নেতা হাফিজ সাঈদের দাতব্য সংস্থা ও অর্থ সম্পদ জব্দ করে তার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান সরকার। ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে মনে করা হয় সাঈদকে। তিনি ওয়াশিংটনেরও কালো তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী।

এক নথির ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল সোমবার এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, গত ১৯ ডিসেম্বর এক বৈঠকে সাঈদের সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে সাঈদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার গোপন নির্দেশ দেওয়া হয়। উচ্চপর্যায়ের ওই বৈঠকে উপস্থিত তিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান। ১৯ ডিসেম্বরের ‘গোপন’ লেখা এক নথিতে দেখা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের পাঁচটি প্রদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সাঈদের দুটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান জামাত-উদ-দাওয়া (জেইউডি) ও ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত (এফআইএফ) ফাউন্ডেশনকে অধিগ্রহণের ব্যাপারে একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। 

জেইউডি ও এফআইএফকে সাঈদের সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) ‘জঙ্গি অংশ’ বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। এলইটিও যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসীর কালো তালিকাভুক্ত। ১৯৮৭ সালে সাঈদের প্রতিষ্ঠিত এই গ্রুপটি মুম্বাইয়ে হামলা চালায় বলে মনে করা হয়। ২০০৮ সালের ওই ঘটনায় ১৬৬ জন নিহত হয়। এ ঘটনার জন্য পাকিস্তান সরকার বেশ কয়েকবারই হাফিজকে আটক করে। পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে প্রতিবারই তাঁকে ছেড়ে দেন আদালত।

এলইটি জাতিসংঘেরও কালো তালিকাভুক্ত। ওই বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় এমন কথাও উঠে আসে যে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এ মাসের শেষ দিকেই নিরাপত্তা পরিষদের একটি দলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পাকিস্তান সফরের কথা রয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানান, ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওই দলের কোনো বিরূপ মন্তব্যের সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া হতে পারে।’ মূলত ওই আতঙ্ক সামনে রেখেই তড়িঘড়ি করে ব্যবস্থা নিচ্ছে পাকিস্তান।

তবে ঘটনাটিকে এভাবে দেখতে চান না পাকিস্তানের বেসামরিক সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহসান ইকবাল। ওই বৈঠকে সহসভাপতিত্ব করেন তিনি। আহসান ইকবাল বলেন, ‘পাকিস্তানের সব অবৈধ সংগঠনের তহবিল সংগ্রহের গলা টিপে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ রয়টার্সকে দেওয়া এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের চাপে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছি না। একটি দায়িত্বশীল জাতি হিসেবে আমাদের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে সেটাই মেটানোর চেষ্টা করছি।’

এ ব্যাপারে জিইউডি ও এফআইএফ জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি হাতে না পেলে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করবে না তারা। বিষয়টি নিয়ে হাফিজ সাঈদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পরিকল্পনা মতো এগোলে এটিই হবে সাঈদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের প্রথম বড় পদক্ষেপ। সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তাদের হিসাবে, সাঈদের নেটওয়ার্ক থেকে ৩০০ মাদরাসা ও স্কুল পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া রয়েছে হাসপাতাল, একটি প্রকাশনা সংস্থা ও অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস। জেইউডি ও এফআইএফের স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি। নিয়োগ করা কর্মচারীও রয়েছে কয়েক শ।


মন্তব্য