kalerkantho


ইরানে সরকারবিরোধী ও পাল্টা বিক্ষোভ, নিহত ২

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শনিবার তৃতীয় দিনে রাজধানী তেহরানে ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানসহ প্রধান প্রধান নগরগুলোতে পাল্টা মিছিল করছে সরকাপন্থীরাও। শনিবার বিকেলে বিক্ষোভ চলাকালে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর দোরুদে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেছে, তারা সরকারি বাহিনীর গুলিতে মারা গেছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি বাহিনী গুলি চালায়নি। বিক্ষোভ উসকে দিতে বিদেশি চরদের সহায়তায় সুন্নি চরমপন্থীরা গুলি চালিয়েছে।

অর্থনৈতিক দুরবস্থা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদসহ ইরানে ইসলামী শাসনের অবসান চেয়েও স্লোগান দেয়। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড এর মধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক স্লোগান দিলে এবং জনগণের সম্পত্তির ক্ষতি করলে এর পরিণাম হবে নির্মম। 

গত বৃহস্পতিবার ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাসহাদে প্রতিবাদীরা বিক্ষোভ শুরু করে। পরদিন শুক্রবার তা অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। তৃতীয় দিনে শনিবার কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানী তেহরানের রাস্তায় নামে। শুধু তেহরান নয়, শনিবার টানা তৃতীয় দিন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বিস্তৃত হয়ে অনেক শহরে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি সহিংসতার মাত্রাও বেড়ে যায়। তেহরানে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি সরকারি ভবনে হামলা চালায়। এ ছাড়া বন্দর আব্বাস, ইজেহ, ঝানজান, খারাজ ও তোনেকাবোনসহ উল্লেখযোগ্য শহরগুলোতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিবিসি পারসি’র প্রতিনিধির খসরু নাজ জানান, সব জায়গায়ই বিক্ষোভকারীরা ধর্মীয় শাসনের অবসান চেয়ে স্লোগান দেয়। তারা বিদেশে ইরানের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদেও স্লোগান দেয়। ‘গাজা নয়, লন্ডন নয়, আমার জীবন ইরানের জন্য’ শীর্ষক স্লোগান দেয়। এই প্রেক্ষাপটে ইরান দাবি করেছে, বিদেশিদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই বিক্ষোভ সংঘটিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ শুরু হওয়ার দিনই ইরানের প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক টুইট বার্তা লিখেছেন, ‘দমনমূলক শাসন চিরদিন স্থায়ী হয় না। সেদিন আসবে, যেদিন ইরানের জনগণ নিজেদের পছন্দের মুখোমুখি হবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ব।’ এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন কর্মকর্তারা ‘সুবিধাবাদী ও প্রতারক’।

২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট মেহমুদ আহমাদিনেজাদ ‘বিতর্কিতভাবে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই বিক্ষোভ নির্মমভাবে দমন করেছিল ইরানের সরকারি বাহিনী। গত বৃহস্পতিবার ওই নির্যাতনের বার্ষিকী পালনের উদ্দেশ্যে রাস্তায় নামে সরকারবিরোধীরা। আবার বিক্ষোভ দমনের বার্ষিকী হিসেবেও দিনটিকে পালন করে সরকারপন্থীরা। এ জন্য তারাও আগে থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করে। এতে দেশটির শহরগুলোতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পাশাপাশি সরকারপন্থীরা এক হাজার ২০০ শহরে মিছিল করে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গুরুত্ব দিয়ে সরকারপন্থীদের মিছিলের খবর প্রচার করা হয়।

শনিবার বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের শহর দোরুদে দুই বিক্ষোভকারীকে রাস্তায় রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বলছে, সরকারি বাহিনীর গুলিতে তাদের দুজন মারা গেছে। ভিডিওটিতে অন্য বিক্ষোভকারীদের ‘যারা আমার ভাইকে খুন করেছে, আমি তাদের হত্যা করব!’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এই ভিডিওগুলোর সত্যতা তাত্ক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এর আগের ভিডিওগুলোতে দোরুদের মিছিলকারীদের ‘একনায়কের মৃত্যু  হোক’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

তবে এ ব্যাপারে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন লোরেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুল্লাহ খোজাস্তের। তিনি বলেন, ওই বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গুলিতে নয়, বিদেশি চরদের গুলিতে নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী বা পুলিশ কোনো গুলি চালায়নি। আমরা প্রমাণ পেয়েছি ইসলামী বিপ্লবের শত্রু তাকফিরি গোষ্ঠীগুলো (সুন্নিপন্থী) ও বিদেশি চররা ওই সহিংসতায় জড়িত ছিল।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাশহাদ থেকে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা পুলিশের একটি গাড়ি উল্টে ফেলছে ও পুলিশের একটি  মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, তেহরানের মূল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ৭০ জনেরও বেশি ছাত্র পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে মেরেছে। সূত্র : বিবিসি, আলজাজিরা ও রয়টার্স।


মন্তব্য