kalerkantho


রাজনীতিতে একই খেলা চলবে?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজনীতিতে একই খেলা চলবে?

রাজনৈতিকভাবে ২০১৭ সাল পার হয়েছে প্রবল ঘূর্ণাবর্তের মধ্যে। টানাপড়েন, তীব্র উত্তেজনা, বিস্ময়, চমক আর দোষারোপের যে খেলা বছরজুড়ে চলেছে তা এ বছরও থামার বা সমাধানের সম্ভাবনা নেই বলা চলে। বরং পরিস্থিতি হয়তো আরো জটিল হবে।

ইরানকে দিয়েই শুরু করা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর আরো কয়েক মিত্র রাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করেন ২০১৫ সালে। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর জানান, ওই চুক্তির শর্তে ভুল আছে। মিত্রদের প্রতি ওই ভুল শোধরানোর অনুরোধ জানান তিনি। অন্যথায় চুক্তি থেকে বের হয়ে যাবেন। শুধু মুখে বলা কথা নয়, ট্রম্প মাস পাঁচেক আগে এই চুক্তিকে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানান। ছয় মাস পরপর এ বিষয়ে কংগ্রেসকে প্রেসিডেন্টের মতামত জানাতে হয়। আগামী ১৫ জানুয়ারি এ নিয়ে ট্রাম্পের মতামত জানানোর কথা। ট্রাম্প যদি তাঁর আগের অবস্থানেই বলবৎ থাকেন তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণুসংশ্লিষ্ট মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো আবারও বহাল হবে। সে ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত ভাঙবে যুক্তরাষ্ট্র। এতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা এই চুক্তি বহাল রাখবে কি না। অন্য দেশগুলো হলো ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও চীন। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে ইরান এই চুক্তি বহাল রাখতে চাইবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে পথ যা-ই হোক ট্রাম্প প্রশাসন যে সম্পর্ককে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গেও পরমাণু নামক ‘মুরগি’ নিয়ে ভালোই ছোটাছুটি করছেন ট্রাম্প। আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়াতে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ মহড়া হবে না বলে এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে সিউল। নির্দ্বিধায় বলা যায়, পিয়ংইয়ংকে ঠাণ্ডা করতেই এ সিদ্ধান্ত। তবে উত্তরের তরুণ নেতা কিম জং উন যে এই গেমসকে তাঁর পরমাণু বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যে পরিণত করবেন না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে?

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা কমারও তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। ট্রাম্পের জামাতা জার্ড কুশনার আগামী জুনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা জানাবেন। ধারণা করা হচ্ছে, জেরুজালেম সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যে বিগলিত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর নতুন গুরু ট্রাম্পকে আরো শক্ত করে ধরবেন।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁর কর্তৃত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। ইরান ইস্যুতে তাঁর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলপ্রীতি আরো বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আর ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে স্পষ্টই বলে দেওয়া যায়, স্বাধীনতা বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা—কোনোটিই তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের অবস্থা এখন এমন, যে প্রস্তাব তাদের দেওয়া হবে সেটাই মানতে হবে।

এ ছাড়া চলতি বছর রাশিয়াতেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আবারও ক্ষমতা গ্রহণ নিশ্চিত।  সূত্র : গার্ডিয়ান।


মন্তব্য