kalerkantho


ফিলিস্তিনে সাহায্য বন্ধের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফিলিস্তিনে সাহায্য বন্ধের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়ায় অগ্রগতি না হওয়ার দায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার হুমকি দিয়েছেন, তিনি ফিলিস্তিনের অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেবেন। ট্রাম্পের এ হুমকির জবাবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদেরকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করা যাবে না এবং কোনো কিছুর বিনিময়ে জেরুজালেম ‘বিক্রি হবে না’।

ট্রাম্প গত মঙ্গলবার টুইট করেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনিদের বছরে কোটি কোটি ডলার দিই; কিন্তু কোনো প্রশংসা বা শ্রদ্ধা পাই না। ফিলিস্তিনিদের যেহেতু শান্তি আলোচনায় আর কোনো আগ্রহ নেই, তাহলে কেন আমরা তাদের ভবিষ্যতের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ দেব?’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ টুইটের জবাবে গতকাল বুধবার ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা বলেন, ‘জেরুজালেম ফিলিস্তিনের সর্বকালের রাজধানী এবং স্বর্ণ বা শতকোটি ডলারের বিনিময়ে এটা বিক্রি হবে না।’ শান্তিপ্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের আগ্রহের ব্যাপারে ট্রাম্পের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সমঝোতার বিপক্ষে নই; কিন্তু সেটা হতে হবে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রস্তাবের ভিত্তিতে, যেখানে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মঙ্গলবারের টুইটে ফিলিস্তিনের সহায়তা বন্ধ করার হুমকি দিলেও অঙ্কটা তিনি স্পষ্ট করেননি যে আসলে তিনি আংশিক, নাকি পুরোটা বন্ধ করবেন। ২০১৬ সালে সব মিলিয়ে ফিলিস্তিনকে ৩১ কোটি ৯০ লাখ ডলার দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে কিছুটা দেওয়া হয় সরাসরি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া জাতিসংঘের কর্মসূচি মারফত ৩০ কোটি ৪০ লাখ ডলার দেওয়া হয় গাজা ও পশ্চিম তীরে।

এ সহায়তা হ্রাসে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে ফিলিস্তিনের এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হানান আশরাওয়ি বলেন, ‘আমরা ব্ল্যাকমেইল হব না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের শান্তি, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া নষ্ট করে দিয়েছেন। এখন তিনি তাঁর নিজের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় আমাদের ওপর চাপানোর সাহস দেখাচ্ছেন।’

গত ৬ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করেন। এর আগ পর্যন্ত ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও তাঁর এ ঘোষণার জেরে এ ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মূলত ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বেড়ে উঠলেও তিনি এর জন্য ফিলিস্তিনিদের দায়ী করছেন এবং শান্তি আলোচনায় তাদের অনাগ্রহের অভিযোগ তুলেছেন।

সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য