kalerkantho


গুজরাট-হিমাচলে বিজেপির জয়

মোদির রাজ্যে এগিয়েছে কংগ্রেস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



গুজরাট-হিমাচলে বিজেপির জয়

বিধানসভা নির্বাচনে গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশে জয়ের আভাস পাওয়ার পর দিল্লিতে বিজেপির প্রধান কার্যালয়ের বাইরে সমর্থকরা উল্লাস করে। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

ভারতের গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশ রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাটে বিরোধী দল কংগ্রেসের সঙ্গে আসনের ব্যবধান কমেছে। এদিকে হিমাচল প্রদেশ হাতছাড়া হয়ে গেছে কংগ্রেসের। এখন পুরো ভারতে মাত্র চারটি রাজ্যে ক্ষমতায় কংগ্রেস।

কয়েদ দফা ভোটগ্রহণের মধ্যে দিয়ে সম্প্রতি এই দুই রাজ্যের নির্বাচন সম্পন্ন হয়। গতকাল ভোট গণনা শেষে প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, গুজরাট বিধানসভায় বিজেপি পেয়েছে ৯৯টি আসন। এই রাজ্য পার্লামেন্টের মোট আসন ১৮২টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ৯২-এ। অর্থাত্ সরকার গঠন নিশ্চিত। তবে গতবারের চেয়ে ১৬টি আসন কম। আসন কমার বিষয়টি নিয়ে অবশ্য মাথা ঘামাতে রাজি নন বিজেপি নেতারা। তাঁরা বলছেন, গুজরাটে আসন কমে যাওয়ার অর্থ ব্যর্থতা নয়। জয়ই বড় কথা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘সুশাসন ও উন্নয়নের রাজনীতির প্রতি জোরালো জনসমর্থনের কথাই স্পষ্ট হয় এই ফল থেকে।’ দলের প্রধান অমিত শাহ গতকাল দিল্লিতে দলের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদেরকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৮ শতাংশ।’ দুই রাজ্যে জয় প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশের ভোটাররা প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের রাজনীতিকে ভোট দিয়েছে। জয় হয়েছে দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির। ভোটাররা বুঝিয়ে দিয়েছে, পরিবারতন্ত্র, জাতপাত আর তোষণের রাজনীতিতে তাদের কোনো ভরসা নেই।’ মূলত রাজিব গান্ধীকে লক্ষ্য করেই শেষের বাক্যটি উচ্চারণ করেন তিনি। আগামী বছরে কর্ণাটক, রাজস্থানসহ যে চার রাজ্যের বিধানসভা ভোট হবে, সেসবের ওপরে গুজরাট, হিমাচলের প্রভাব থাকবে বলে জানিয়েছেন বিজেপি সভাপতি।

গুজরাটে কংগ্রেসের ফল তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো। ২০১৪ সাল থেকে দলটি রাজনীতিতে যেভাবে মার খাচ্ছে, সে হিসেবে গুজরাটকে কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন বলা যেতে পারে। দলটি আসন পেয়েছে ৮১টি। আগেরবারের চেয়ে ১৮টি বেশি। সদ্য দলের দায়িত্ব পাওয়া রাহুল গান্ধী বলেন, তাঁর দল ফল মেনে নিয়েছে। এক টুইটে রাহুল দলের কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিপক্ষের চেয়ে আপনারা ভিন্ন। কারণ আপনারা আত্মমর্যাদা আর সাহস নিয়ে লড়াই করেছেন।’ দলীয়ভাবে কংগ্রেস গুজরাটকে একটি সাফল্য হিসেবেই বিবেচনা করছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা কমলনাথ বলেন, ‘বিজেপির তুলনায় কংগ্রেসের আসন বেড়েছে। রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অধ্যায় এখান থেকেই শুরু হচ্ছে।’ বলে রাখা ভালো, গুজরাটে দুই দশক ধরে ক্ষমতায় বিজেপি। বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতেও গুজরাট নির্বাচনের বিশেষ তাত্পর্য রয়েছে। শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। এর প্রভাব ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনেও পড়বে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিষয়টি মান রক্ষারও লড়াই ছিল।

বাকি চারটি আসন পেয়েছে অন্যরা। গতকাল সকাল থেকে ভোট গণনা শুরু হয়। ৯ ঘণ্টা ধরে চলার পর জানা যায়, বিজেপি পেয়েছে ৪৯.৯ শতাংশ ভোট। আর কংগ্রেস পেয়েছে ৪৩.৩ শতাংশ ভোট। 

তবে ব্যালট পেপারে ‘কোনো প্রার্থীকেই পছন্দ নয়’ (নান অব অ্যাবভ—নোটা) বলে যে ঘর রয়েছে তাতে সিল মেরেছে অন্তত ২ শতাংশ ভোটার, যা চলমান রাজনৈতিক ধারাকে প্রত্যাখ্যানেরই একটি চেষ্টা।

আর হিমাচল প্রদেশে প্রায় তিন দশক ধরেই বাধা নিয়মে একই ঘটনা ঘটে চলেছে। এ রাজ্য প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয় কংগ্রেস ও বিজেপি। এবারও সেই রেওয়াজ অব্যাহত। এর রাজ্যে মোট আসন ৬৮। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৩৫টি আসন। বিজেপি পেয়েছে ৪৪টি আসন। ২০১২ সালের চেয়ে তাদের আসন বেড়েছে ১৮টি। যদিও দলটির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী প্রেমকুমার ধুমল পরাজিত হয়েছেন। কংগ্রেস পেয়েছে ২১টি আসন। তাদের কমেছে ১৫টি আসন।  সূত্র : এনডিটিভি, দ্য হিন্দু, হিন্দুস্তান টাইমস।

 


মন্তব্য