kalerkantho


ইরানকে ইরাক বানাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ইরানকে ইরাক বানাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন যে জোট ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে আসছে, তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও ইয়েমেন যুদ্ধে অংশ নিয়েছে এবং এখন সেই দায়-দায়িত্ব আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। গতকাল শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এসব কথা বলেন।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির কাছে এক সামরিক ঘাঁটিতে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন। সামনে রাখা কিছু জিনিস দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনে তৎপর ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে, এগুলো সেই ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ। তিনি আরো দাবি করেন, এসব ধ্বংসাবশেষে বিদ্যমান নানা চিহ্ন থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত হয়েছে, এগুলো ইরানে তৈরি। হ্যালি বলেন, এগুলো ইরানের তৈরি, ইরানের পাঠানো, এগুলো ইরানই দিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে ‘আগুন উসকে’ দেওয়ার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ইরানের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে এবং ইরানকে হটাতে যুক্তরাষ্ট্র জোট গঠন করছে।

হ্যালির এসব অভিযোগের জবাবে সেদিনই টুইটারে হ্যালি এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন দূত কলিন পাওয়েলের ছবি পাশাপাশি পোস্ট করেন ইরানের পররাষ্ট্র জারিফ। পাওয়েলের দায়িত্ব পালনের সেই সময়ের দিকে ইঙ্গিত করে টুইটারে তিনি লেখেন, ‘আমি যখন জাতিসংঘে ছিলাম, তখন এ নাটক দেখেছি আর নাটকের ফলে কী ঘটেছিল, সেটা দেখেছি।’ না বললেই নয়, এই পাওয়েলই দাবি করেছিলেন, ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে এবং এ তথ্যের ভিত্তিতে ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র; কিন্তু পরে ইরাকে এ ধরনের কোনো অস্ত্রের অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া গতকাল জারিফ বলেন, কোনো বিকল্প ঘটনা বা বিকল্প প্রমাণ উপস্থাপন করে (ইয়েমেন) যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা ধামাচাপ দেওয়া যাবে না। ইরান যেখানে শুরু থেকে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি, সহায়তা আর আলোচনার কথা বলছিল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে হত্যায় সামর্থ্য জুগিয়েছে এবং দুর্ভিক্ষের বোঝা চাপিয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেন সামরিক অভিযান শুরু করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর থেকে ইয়েমেনে সাড়ে আট হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশির ভাগ সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘ জানায়, দেশটি এই মুহূর্তে চরম দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। সূত্র : এএফপি, আলজাজিরা।

 



মন্তব্য