kalerkantho


নিপীড়িত ফিলিস্তিনের মুখ ফাওজি

‘ইসরায়েলের ধ্বংস ঘনিয়ে এনেছেন ট্রাম্প’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘ইসরায়েলের ধ্বংস ঘনিয়ে এনেছেন ট্রাম্প’

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। এর মধ্যে গাজায় ইসরায়েলে সশস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে। জেরুজালেম ঘোষণার কারণে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষ মনে করছে, ইসরায়েলের দিন শেষ হয়ে এসেছে। হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহও একই কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার পর থেকে জেরুজালেমে সহিংসতা বেড়েছে। সহিংসতা বেড়েছে ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরেও। রেড ক্রিসেন্ট জানায়, গত সোমবার প্রায় ২৭ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। এ ছাড়া বিক্ষোভ করছে ইরানের মানুষ। যুদ্ধপীড়িত লেবাননে শিয়া মতাবলম্বী হিজবুল্লাহ গত সোমবার রাজধানী বৈরুতে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে।

ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ নেতা নাসরাল্লাহ মনে করেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সিদ্ধান্তটা বোকামি’ হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ‘সমাপ্তির শুরুটা’ ঘটিয়ে দিয়েছে। হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি নির্মূলে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সৈয়দ আব্দুল্লাহ হোসেইনি মনে করেন, ইসরায়েলের পতন ঘটানোর জন্য ফিলিস্তিন, লেবানন আর সিরিয়ায় থাকা ফিলিস্তিনিদের  সম্মিলনই যথেষ্ট। উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বাইরে কেবল লেবাননেই সাড়ে চার লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীর বাস, যা লেবাননের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে ইসরায়েলের পতনের দিন গণনাকারী যে নিয়ন সাইনবোর্ডটি রয়েছে সেদিকে ইঙ্গিত করে আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এটাকে ত্বরান্বিত করার কাজটা জনাব ট্রাম্প বেশ ভালোভাবেই করেছেন। আমরা ভেবেছিলাম ইসরায়েলের ধ্বংসের দেরি আছে। কিন্তু ইসরায়েলের সমাপ্তির শুরুটা হয়ে গেল। তিনি যা করেছেন সেটার জন্য তাকে ধন্যবাদ।’ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ইসরায়েলের চূড়ান্ত পতন ঘটবে। তাঁর ঘোষণা অনুরসণ করে দিন গণনাকারী ওই নিয়ন সাইনবোর্ডে গত সোমবার দেখানো হয়, ইসরায়েলের পতনের আট হাজার ২৪০ দিন বাকি।

এসবের মধ্যে গত সোমবার গাজার উত্তরাংশে হামাসের সামরিক চৌকি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। ইসরায়েলের দাবি, গাজা থেকে কমপক্ষে দুটি রকেট হামলার জবাবে তারা হামাসের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে গাজা থেকে ছোড়া রকেট হামলায় কোথায় কতখানি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে ব্যাপারে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। তারা কেবল জানিয়েছে, একটি রকেটকে মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়েছে।

জনসাধারণের বিক্ষোভ, ইসরায়েলের সশস্ত্র পদক্ষেপের পাশাপাশি চলছে তীব্র কূটনৈতিক টানাপড়েন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের আগামী মাসের মধ্যপ্রাচ্য সফরকালে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন না ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ফিলিস্তিনি নেতা এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার সুযোগ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছে ওয়াশিংটন।

এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত সোমবার মিসরের রাজধানী কায়রোয় অবস্থানকালে ট্রাম্পের জেরুজালেম সিদ্ধান্তকে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী’ আখ্যা দেন। একই দিন তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অবস্থানকালে তিনি বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রক্রিয়া ‘লাইনচ্যুত’ হয়েছে।

আজ বুধবার বসতে যাচ্ছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) সম্মেলন। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করা হলে ওআইসির জরুরি সম্মেলন আহ্বান করা হবে, এমন ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। তুরস্ক বর্তমানে সংস্থাটির প্রধান। ওআইসি সম্মেলনের আগে গত সোমবার সংস্থার সদস্য মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির সঙ্গে দেখা করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট আব্বাস। সিসির মুখপাত্র জানিয়েছেন, পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী করার পক্ষে মিসরের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। সূত্র: এএফপি, আলজাজিরা।


মন্তব্য