kalerkantho


নেতানিয়াহুর আহ্বান নাকচ

দ্বিরাষ্ট্র সমাধানেই ইউরোপের আস্থা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দ্বিরাষ্ট্র সমাধানেই ইউরোপের আস্থা

রামাল্লাহর পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে ফিলিস্তিনিরা। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণার জেরে ইসরায়েলের সঙ্গে সব চুক্তি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে জর্দান। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকার করে নেয়। যদিও সংস্থাটির পররাষ্ট্রপ্রধান ফেদেরিকা মোগেরিনি জানিয়েছেন, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে তাঁদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

বিতর্কিত জেরুজালেমের পূর্বাংশে ওল্ড সিটিতে আল-আকসা মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা জর্দান ইসরায়েলের সঙ্গে করা সব ধরনের চুক্তি পর্যালোচনা করতে যাচ্ছে। জর্দানের আইন প্রণেতারা গত রবিবার শেষ বেলায় পার্লামেন্টের বিচারবিষয়ক কমিটিকে দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি পর্যালোচনার ক্ষমতায় অনুমোদন দেন। ফলে ইসরায়েল-জর্দানের মধ্যে হওয়া ১৯৯৪ সালের ‘ওয়াদি আরাবা’ শীর্ষক শান্তিচুক্তি পর্যালোচনারও ক্ষমতা পেল এ কমিটি। জর্দানের পক্ষে একমাত্র বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ এ চুক্তি বাতিল করার ক্ষমতা রাখেন।

শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, ইউরোপেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে রয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে গতকাল সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক প্রাতরাশ সভায় অংশ নেন। প্রাতরাশের আগমুহৃর্তে ইইউ পররাষ্ট্রপ্রধান মোগেরিনির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণার প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, এতে শান্তি বর্জিত হয়নি, শান্তির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ বাস্তবতাকে স্বীকার করে নেওয়াই শান্তির মূল কথা, এটা শান্তির ভিত্তি। তিনি আরো বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ইউরোপের সব অথবা বেশির ভাগ দেশ তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেবে, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে এবং নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও শান্তির জন্য আমাদের সঙ্গে দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হবে।’

ইইউ নেতা মোগেরিনি অবশ্য বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের একমাত্র বাস্তবমুখী সমাধান দুটি রাষ্ট্র, যেখানে জেরুজালেম হবে উভয়ের রাজধানী।’ মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি নামে দুটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সত্তরের দশকে ঐকমত্য হয়। ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করায় মধ্যপ্রাচ্য সংকট যে মাত্রা পেয়েছে, সেটা সমাধানের দায়িত্ব নিতে নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোগেরিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের টেকসই ও পূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করাটা ইসায়েলের স্বার্থের সঙ্গে, বিশেষত ইসরায়েলের নিরাপত্তার স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।’

ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে আগের দিন রবিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে প্যারিসে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ম্যাখোঁ বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, চলমান মারাত্মক সংকট থেকে আমাদের বের করে আনার জন্য তিনি যেন ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বোঝাপড়ায় সাহসিকতার পরিচয় দেন।’ ট্রাম্পের ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং শান্তি আলোচনার জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন ম্যাখোঁ। সেই সঙ্গে তিনি এটাও বলেন, ‘শান্তি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে না। এটা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের দুই নেতার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।’

এদিকে গত রবিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ইসরায়েলকে ‘হামলাকারী ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ অ্যাখ্যা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্যারিসে সংবাদ সম্মেলনকালে নেতানিয়াহু বলেন, ‘যে নেতা নিজের দেশে কুর্দি গ্রামে বোমা বর্ষণ করে, সাংবাদিকদের জেলে ঢোকায়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানকে সহায়তা করে, নিরীহ মানুষকে হত্যার জন্য গাজার সন্ত্রাসীসহ অন্য সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়, তেমন নেতার কাছ থেকে নৈতিকতার ভাষণ শুনতে আমি অভ্যস্ত নই।’

সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।

 

 

 



মন্তব্য