kalerkantho


জেরুজালেম ঘোষণা

ইহুদি কোটারি তোষণেই ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ইহুদি কোটারি তোষণেই ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত!

ব্যবসায়ী থেকে অনেকটা রাতারাতি প্রেসিডেন্ট বনে যাওয়া লোকরঞ্জনবাদী ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতাগ্রহণের আগেপরে অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড যত সমালোচনারই জন্ম দিক না কেন, সে সবই ছিল ভোটারদের কাছে টেনে রাখার মোক্ষম কৌশল।

আর জেরুজালেম ইস্যুতেও তিনি সেই একই কৌশল মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গত বুধবারের ঘোষণায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে একটা বিষয় স্পষ্ট—তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন। জেরুজালেম ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের কারণে তিনি সমর্থক বিশেষত ইসরায়েলপন্থী আমেরিকান ইহুদি ও ডানপন্থী এভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের দিক থেকে এবং সেই সঙ্গে বিগত নির্বাচনে তাঁর জন্য অর্থায়নকারীদের পক্ষ থেকে বেশ চাপের মধ্যে ছিলেন। এই যেমন লাস ভেগাসের ধনাঢ্য ক্যাসিনো ব্যবসায়ী শেল্ডন অ্যাডেলসন। তিনি ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প সমর্থক বিভিন্ন দলকে সব মিলিয়ে আড়াই কোটি ডলার দিয়েছেন। ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের ঘোষণায় দেরি হওয়ায় ভীষণ খেপেছিলেন তিনি। অ্যাডেলসনের ক্ষোভের কথা গত এপ্রিলেই জানায় সংবাদমাধ্যম পলিটিকো।

ট্রাম্প যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর জোর দিয়ে ঘোষণাটা দিয়েছেন, সেটা তাঁর কথায়ও স্পষ্ট।   তিনি বলেছেন, ‘আগের প্রেসিডেন্টরা নির্বাচনী প্রচারে একটা বড় ধরনের ওয়াদা করলেও তাঁরা সেটা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।

আজ আমি সেটা পূরণ করছি। ’ তা ছাড়া বিশ্লেষকরাও মনে করেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করাটা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি মধ্যপ্রাচ্য নীতির অংশ নয়, বরং ট্রাম্পের ভোটাদের মন রক্ষার কৌশল।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করে ট্রাম্প যে জেরুজালেম সংকটের সমাধান করে ফেলেছেন, তা নয়। প্রথমত, পূর্ব ও পশ্চিম জেরুজালেমে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের অধিকার প্রসঙ্গে সংকটটা যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায়ই রয়ে গেছে। কারণ ট্রাম্প গত বুধবারের বক্তব্যে ‘ইসরায়েলি জেরুজালেমের’ সীমারেখা টেনে দেননি, যদিও পুরো জেরুজালেমের দখল আদতে ইসরায়েলের হাতে। বরং তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তিচুক্তি হওয়া নিয়ে তিনি আশাবাদী এবং তিনি শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করার জন্য তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। দ্বিতীয়ত, মার্কিন দূতাবাস শিগগিরই তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে নেওয়া হবে, এমনটাও নিশ্চিত করেননি ট্রাম্প। দূতাবাস স্থানান্তরপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কমপক্ষে তিন-চার বছর লেগে যেতে পারে।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি স্থাপনে ট্রাম্প নিজের অঙ্গীকারবদ্ধতার কথা বললেও বিশ্লেষকদের অভিমত, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে তিনি আদতে শান্তিপ্রক্রিয়ার বুকে ছুরি চালিয়ে দিয়েছেন। কেননা এ ঘোষণায় তিনি ইসরায়েলকে উদ্দীপিত করেছেন। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের অধিকার পুরোপুরি অগ্রাহ্য করেছেন। সব মিলিয়ে তিনি এখন যা করছেন, সেটাকে কূটনীতি না বলে ‘ট্রাম্পনীতি’ অ্যাখ্যা দিতে চান পর্যবেক্ষকরা।

সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি।


মন্তব্য