kalerkantho


জেরুজালেম কেন হবে ইসরায়েলের রাজধানী?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জেরুজালেম কেন হবে ইসরায়েলের রাজধানী?

ইসরায়েলিরা বেশ ঘটা করে প্রতিবছর ১৬ মে ‘জেরুজালেম দিবস’ পালন করে। তারা আনন্দের সঙ্গে জাতীয় দিবস হিসেবে এটিকে পালন করলেও এর পেছনের ইতিহাস শুধুই দখলদারির ইতিহাস, যে পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বরাবরই অবৈধ হিসেবে বিবেচিত।

আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র বিরোধিতা আর সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সেই দখলি ভূমিকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিতর্কটা আরো উসকে দিলেন।

ইউরোপজুড়ে ইহুদিবিরোধিতার জেরে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে ইহুদিরা ফিলিস্তিনের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। পুরোমাত্রার ব্রিটিশ পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তারা মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যের বুকে একটা ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বসে। ইহুদি নেতা ডেভিড বেন গুরিয়ন ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ‘ইসরায়েল’ নামে এক নতুন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করেন। পরের মাসেই তারা জেরুজালেমের পশ্চিমাংশ দখল করে নিয়ে নিজেদের রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করে। মোটা দাগে তখন থেকেই জেরুজালেমে ইহুদি দখলদারি শুরু। ১৯৬৭ সালে তারা জেরুজালেমের বাকি অংশটুকুও ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়। পূর্ব জেরুজালেমেই পবিত্র ওল্ড সিটির অবস্থান, যেটা মুসলিম-ইহুদি উভয় গোষ্ঠীর কাছে পবিত্র। আন্তর্জাতিক মতামত উপেক্ষা করে ইসরায়েল ১৯৮০ সালে ‘জেরুজালেম আইন’ পাসের মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে এবং গোটা অঞ্চলকে নিজেদের রাজধানী ঘোষণা করে।



জেরুজালেমে সাড়ে আট লাখ মানুষের মধ্যে ৩৭ শতাংশ আরব এবং ৬১ শতাংশ ইহুদি। আর রয়েছে কিছু আরব খ্রিস্টান। ফিলিস্তিনিদের বেশির ভাগের বসবাস পূর্ব জেরুজালেমে। সেখানে সংখ্যায় তারা প্রায় চার লাখ ২০ হাজার আর ইহুদিদের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। এ অঞ্চলে ফিলিস্তিনিরা পুরুষক্রমে বসবাস করলেও তারা এখন ‘বিদেশি’। একগাদা কাগজপত্র দেখিয়ে তাদেরকে স্থায়ী বসবাসের অধিকার অর্জন করতে হয় এবং সব সময় সেই অধিকার হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত থাকতে হয়। ইসরায়েলের দখলের রাজত্বে তারা এখন রাষ্ট্রবিহীন এবং নাগরিক অধিকারবঞ্চিত মানুষ। বিপরীতে অবৈধভাবে স্থাপিত বসতিতে থাকা ইহুদিরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় উপভোগ করে সব রকম নাগরিক অধিকার।

জেরুজালেমে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্তির পরিস্থিতিটা কী? ইসরায়েল জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত সেখানে নেদারল্যান্ডস, কোস্টারিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাস ছিল। কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার অভিযোগ আনার পর পট পরিবর্তিত হতে থাকে। দূতাবাসগুলো একে একে জেরুজালেম থেকে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবে সরতে থাকে। সর্বশেষ ২০০৬ সালে কোস্টারিকা ও এল সালভাদরের দূতাবাসও তেল আবিবে সরিয়ে নেওয়া হয়। এখন জেরুজালেমে শুধু কয়েকটি দেশের কনস্যুলেট রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কনস্যুলেটটি পূর্ব জেরুজালেমে এবং ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ বেশ কয়েটি দেশের কনস্যুলেট পশ্চিম জেরুজালেমে। না বললেই নয়, জেরুজালেমে কখনোই মার্কিন দূতাবাস ছিল না, ছিল তেল আবিবে। কিন্তু এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের নামে জেরুজালেমে দূতাবাস সরানোর দিকে গেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইতিহাস, বিভিন্ন মতাবলম্বী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মতামত— কোনো বিচারেই জেরুজালেমে ইসরায়েলের একক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। এ সংকটের সমাধান শুধু ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব হতে পারে। সূত্র : আলজাজিরা, সিএনএন।


মন্তব্য