kalerkantho


‘বসনিয়ার কসাইয়ের’ যাবজ্জীবন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘বসনিয়ার কসাইয়ের’ যাবজ্জীবন

বসনিয়ায় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক বসনীয় সার্ব কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। বসনিয়ার কসাই হিসেবে পরিচিত ম্লাদিচ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার পূর্বাঞ্চলীয় ছোট পার্বত্য শহর সেব্রেনিচায় চালানো গণহত্যার নেতৃত্ব দেন।

১৯৯৫ সালে অধিকৃত সারায়েভোতে অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়।

দ্য হেগে স্থাপিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটিওয়াই) ম্লাদিচের (৭৪) বিরুদ্ধে গতকাল এ রায় দেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত ১১টি অভিযোগের মধ্যে ১০টিই প্রমাণিত হয়েছে।

রায় পড়া চলার সময় উচ্চ রক্তচাপের কারণে ম্লাদিচের আইনজীবী রায় স্থগিত রাখার আহ্বান জানালে বিচারকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এ সময় ম্লাদিজ হৈচৈ জুড়ে দিলে তাঁকে আদালক কক্ষ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। শাস্তি শোনানোর সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

আইসিটিওয়াই-এ ২০১২ সাল থেকে ম্লাদিচের বিচার চলছিল। তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ১৬ বছর বিচার এড়িয়ে পালিয়ে বেড়ানোর পর ২০১১ সালে এক চাচাতো ভাইয়ের বাসা থেকে আটক করা হয় তাঁকে।

পরিবার ও দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় এতগুলো বছর পালিয়ে বেড়ান তিনি।

সে ব্রেনিচার নিকটবর্তী স্মরণকেন্দ্রে বসে ঘটনার ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা এই রায় টেলিভিশনে সরাসরি দেখছিল। হেগে আদালতের বাইরেও নিহত বা নিখোঁজ স্বজনদের ছবি হাতে জড়ো হয় অনেকে। এদের মধ্যেই একজন মুনিরা সুবাসিচ। ওই সময় ছেলে ও স্বামীকে হারান তিনি। পরে গণকবর থেকে ডিএনএ মিলিয়ে দুজনেরই পরিচয় সনাক্ত করা হয়। সুবাসিচ ওই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সার্ব বাহিনী পুরুষদের আলাদা করে নিয়ে যাওয়ার পর দিন শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন ম্লাদিচ। ক্যামেরার সামনে তিনি বলেন, কারো ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে ক্যামেরা সরে যাওয়ার পরই শিবিরে হত্যা ও ধর্ষণ শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি। গতকালকের রায়ে নিহতদের এসব স্বজন সন্তোষ প্রকাশ করেন।    

ম্লাদিচের রায়ের মধ্য দিয়ে বিশেষ এই ট্রাইব্যুনাল যুগোস্লাভিয়ায় যুদ্ধাপরাধ নিয়ে কাজ শেষ করতে যাচ্ছেন। এটাই ট্রাইব্যুনালের শেষ রায়। বিচার চলাকালে ম্লাদিচ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ম্লাদিচের ছেলেও জানিয়েছেন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তাঁরা।

১৯৯২-৯৬ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া যুদ্ধের সময় জাতিসংঘ সার্বিয়ার সীমান্তের কাছে অবস্থিত সে ব্রেনিচাকে ‘নিরাপদ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে। হালকা অস্ত্রে সজ্জিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ডাচ সদস্যরা এলাকাটির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। ১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই ম্লাদিচের বাহিনীর আচমকা আক্রমণে হতবিহ্বল ডাচ শান্তিরক্ষীরা আত্মসমর্পণ করে। সার্ব বাহিনী এরপর শহরটির পুরুষ ও বালকদের (১২-৭৭ বছর বয়সী) নারীদের কাছ থেকে আলাদা করে। পুরুষ ও বালকদের বাসে করে সরিয়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই সময় এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। স্লাদিচের সরাসরি নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে নিজ দেশে ম্লাদিচকে এখনো ‘নায়ক’ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

 সূত্র : বিবিসি।  


মন্তব্য