kalerkantho


এপেক সম্মেলনে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ভাষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এপেক সম্মেলনে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ভাষণ

ভিয়েতনামে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপিইসি বা এপেক) সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনীতি নিয়ে তাঁর কট্টর জাতীয়তাবাদের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এযাবৎকালে যে নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য চর্চা হয়েছে, তা খোদ মার্কিন শ্রমিকদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর বরাবরের মতো এবারও তিনি এই সংকটের জন্য তাঁর পূর্বসূরিদের দায়ী করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ নেওয়া যায়—এমনটি আমরা আর হতে দেব না। আমরা কাছে সব সময়ই যুক্তরাষ্ট্রই সর্বাগ্রে (আমেরিকা ফার্স্ট) আমি আশা করব, এই কক্ষে উপস্থিত সবার কাছেই তার দেশই শুরুর কথা। ’

এপেক সম্মেলনের দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘মুক্ত বাণিজ্যের কারণে লাখ লাখ মার্কিনি কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে’ এবং তিনি এ অবস্থা আর চলতে দেবেন না। দুই দিনের এ সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে তিনি ভিয়েতনামে অবস্থান করছেন।

সম্মেলনের প্রথম দিন দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, তিনি সব সময়ই যুক্তরাষ্ট্রকে সবার আগে রাখবেন এবং এপেকভুক্ত দেশগুলোর ‘ন্যায্য পারস্পরিক বাণিজ্য’ নীতি মেনে চলা উচিত। বাণিজ্য বিষয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২১ দেশের জোট এপেক। ভিয়েতনামের বন্দরনগরী ডা নাং এ গতকাল থেকে এ সম্মেলন শুরু হয়েছে। এদিন বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার তৈরি করা বিশ্ববাণিজ্য নীতি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি সব সদস্য দেশ এই বাণিজ্য নীতির সম্মান না করে, তবে এটার সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতার অভিযোগ তুলে আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অন্যান্য দেশের পণ্য প্রবেশে বাধা অনেক কম এবং শুল্কও কম। অন্যান্য দেশে বিষয়গুলো একই রকম নয়। এটা আমাদের দেশের অনেক মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মুক্ত বাণিজ্যের কারণে লাখ লাখ আমেরিকান কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ’ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টারশিপ (এপেকভুক্ত ১২ দেশের বাণিজ্য চুক্তি) থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে আসছেন। তাঁর যুক্তি, এই চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও গতকাল ট্রাম্প বলেন, তিনি এপেকভুক্ত যেকোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করতে রাজি আছেন। তিনি বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক জোটভুক্ত যেকোনো দেশ যারা ন্যায্য পারস্পরিক বাণিজ্য নীতি মেনে চলতে রাজি আছে তাদের সঙ্গে আমেরিকা দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করবে। তবে সেটা শুধু পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে। ’

ট্রাম্পের পর ভাষণ দিতে উঠে একেবাইে ভিন্ন সুরে কথা বলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। তিনি মুক্ত বাণিজ্যের প্রশংসা করে বলেন, ‘এটি এখন অপরিবর্তনীয় ধারা। ’ একই সঙ্গে তিনি বহুজাতিক বাণিজ্য চুক্তির পক্ষেও নিজের সমর্থনের কথা জানান। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ভারসাম্য একেবারেই নেই এবং পাল্লা অনেকাংশেই চীনের দিকে হেলে রয়েছে। এতটা না হলেও একই কথা ভিয়েতনাম সম্পর্কেও প্রযোজ্য। সূত্র : সিএনএন, রয়টার্স।


মন্তব্য