kalerkantho


আরাফাতের ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকী

ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশা জাতীয় ঐক্য

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাশা জাতীয় ঐক্য

ফিলিস্তিনে আরাফাতের মৃত্যুবার্ষিকী পালন শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। ওই দিন গাজায় আয়োজিত সমাবেশ থেকে তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

হামাস-ফাতাহর সম্মিলনের মধ্য দিয়ে আরো ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিন গড়ার আশা নিয়ে এবার ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছে ফিলিস্তিনি জনতা। ফিলিস্তিনের মূল ভূখণ্ডে তো বটেই, বিচ্ছিন্ন গাজা উপত্যকায়ও পালিত হচ্ছে এ ফিলিস্তিনি নেতার ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকী।

ইহুদিদের জন্য ইসরায়েল নামক একটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্মের পর ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা যখন চরমে, তখন নেতা হিসেবে ইয়াসির আরাফাতের উত্থান। স্বাধীন ফিলিস্তিনের জন্য সম্ভাব্য সব উপায়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এ নেতার স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কাছের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর ৭৫ বছর বয়সে মারা যান ফাতাহ নেতা আরাফাত। মৃত্যুকালেও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।

পশ্চিম তীর ও গাজা উভয় অংশের ফিলিস্তিনিরা এবার নতুন উজ্জীবনী শক্তি নিয়ে তাদের প্রয়াত নেতার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছে। দীর্ঘ এক দশকের তীব্র বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় গত ১২ অক্টোবর চুক্তি করে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাস এবং মূল অংশে আধিপত্য করা ফাতাহ। চুক্তির প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে এ মাসের প্রথম দিনই গাজা সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে হামাস। আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে গাজার পুরো নিয়ন্ত্রণই কেন্দ্রের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।

ফাতাহর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাহমুদ আরাফাত বলেন, ‘আরাফাত এতটাই অসাধারণ নেতা ছিলেন যে তাঁর স্মৃতি আমাদের মধ্যে আজও প্রচণ্ড আবেগের জন্ম দেয়।

নেতা হিসেবে ইয়াসির আরাফাত শুধু বিপ্লবের জন্যই নয়, বরং বিশ্বের সব মুক্তি আন্দোলনের জন্য প্রেরণাদায়ক। ’ ফিলিস্তিনিদের কাছে ইয়াসির আরাফাত যে নামে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, সেই নামটি উল্লেখ করে মাহমুদ আরাফাত বলেন, ‘আমরা আবু আম্মারের পদাঙ্ক অনুসরণ করছি, যিনি আমাদের স্বাধীনতার সিদ্ধান্তে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন। আর আমরা শুধু সেটাই মানব, যেটা আমাদের জনগণের জন্য উপযুক্ত। ’ তিনি জানান, ফিলিস্তিনের বর্তমান নেতৃত্ব জাতীয় ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আরাফাতের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে গত বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে আয়োজিত এক সমাবেশে যোগ দেওয়া সানা আল রিফাই বলেন, ‘এ বছর আমরা সত্যি (সমাবেশে) আসতে চেয়েছি। কারণ এ বছরটা হলো এখানকার সঙ্গে গাজার পুনর্মিলনের বছর। আমরা আশা করি, শুরু হিসেবে এ পুনর্মিলন শুভ হবে এবং ফিলিস্তিনি জনতার মধ্যে অধিকতর ঐক্য দেখতে পেলে সেই শহীদের আত্মা আরো শান্তিতে থাকবে। ’

হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায়ও গত বৃহস্পতিবার বড় ধরনের সমাবেশ হয়। বর্তমানে হামাস-ঘনিষ্ঠ সাবেক ফাতাহ নেতা মোহাম্মদ দাহলান আয়োজিত এ সমাবেশে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়। তাদের হাতে ছিল প্রয়াত আরাফাতের ছবি এবং ফিলিস্তিনের পতাকা। সমাবেশ মঞ্চে আরাফাতের ছবির সঙ্গে হামাসের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নেতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনের ছবিও ছিল। এ সমাবেশের আয়োজক সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী দাহলান নিজে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন না।

পশ্চিমা গোষ্ঠীর প্রশ্রয়ে থাকা ইসরায়েলের দখলদারত্ব আর নির্যাতনে পিষ্ট ফিলিস্তিনিরা এখনো মনে করে, তাদের প্রিয় নেতাকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করেছে ইসরায়েলিরা, যদিও ইসরায়েল সব সময় অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। এ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ২০১২ সালে তাঁর মৃতদেহ কবর থেকে তুলে পরীক্ষা করার পর ফ্রান্সের তদন্ত দল জানায়, আরাফাতের দেহে কোনো বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য