kalerkantho


বেলফোর ঘোষণার শত বছর

শত বছরের শোষণ আর সংগ্রাম

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রাশিয়া আর মধ্য ইউরোপে প্রচণ্ড ইহুদিবিদ্বেষ থেকে বাঁচতে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ লগ্ন থেকে ইহুদিরা দলে দলে ফিলিস্তিনে আসতে থাকে। তাদের জন্য আলাদা আবাসন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ব্রিটিশরা সে সময় যে সংকটের জন্ম দিয়েছে, তখন থেকে আজ অবধি ঘটে যাওয়া প্রধান ঘটনা ক্রমানুসারে তুলে ধরা হলো।

—প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ইহুদিদের জন্য ‘জাতীয় আবাস’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর।

—এর প্রতিবাদে ১৯১৯ সালে জেরুজালেমে সম্মেলন করে।

—ইহুদিদের জাতীয় আবাস প্রকারান্তরে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্রিটিশ ম্যান্ডেটকে ১৯২২ সালে বাধ্যবাধকতায় পরিণত করে লিগ অব নেশনস।

—১৯৩৬-১৯৩৯ সালে ফিলিস্তিনে আরব বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করে ব্রিটিশরা।

—ইহুদি ও আরবদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে প্রস্তাব পাস করে জাতিসংঘ।

—১৯৪৮ সালের ১৪ মে ব্রিটিশ ইহুদি নেতা ডেভিড বেন গুরিয়ন ‘ইসরায়েল’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। পরের আট মাসে সশস্ত্র ইহুদিরা ৪০০টির বেশি গ্রামে তাণ্ডব চালিয়ে সাড়ে সাত লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে বাস্তুহারা করে এবং তাদেরকে পশ্চিম তীর, গাজা এবং সংলগ্ন আরব রাষ্ট্রগুলোতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে।

—১৯৬৪ সালে ফিলিস্তিনিরা প্রতিষ্ঠা করে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন তথা পিএলও।

—১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধে মিসর, জর্দান ও সিরিয়াকে পরাজিত করে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গোলান হাইটস দখল করে নেয় ইসরায়েল। এরপর সেখানে শুরু হয় ইহুদি বসতি স্থাপন প্রক্রিয়া, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব সময় নিন্দিত ও অবৈধ হিসেবে বিবেচিত।

—১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর আরবরা ইসরায়েলে হামলা চালায়, যদিও ইসরায়েল তা প্রতিহত করে দেয়।

—লেবাননে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালাতে ১৯৮২ সালের ৬ জুন সে দেশে অনুপ্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ২০০০ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি ছিল।

—ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের মধ্যে প্রথম ইন্তিফাদা তথা বিপ্লব ছড়িয়ে পড়ে ১৯৮৭-৯৩ সালে।

—নরওয়ের অসলোতে ছয় মাসের গোপন আলোচনার পর ফিলিস্তিনের স্বায়ত্তশাসন প্রসঙ্গে ইসরায়েল-পিএলওর মধ্যে চুক্তি হয়, যা অচিরেই ব্যর্থ হয়ে যায়।

—পিএলও নেতা ইয়াসির আরাফাত ১৯৯৪ সালে গাজা ও পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

—২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা এরিয়েল শ্যারনের পূর্ব জেরুজালেম সফরকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দ্বিতীয় ইন্তািফাদার জন্ম হয়।

—একের পর এক ফিলিস্তিনি আত্মঘাতী বোমা হামলার জবাবে ২০০২ সালে পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায় ইসরায়েল।

—ফিলিস্তিনি নেতা আরাফাতের মৃত্যুর পর ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে নেতৃত্বে আসেন উদারপন্থী নেতা মাহমুদ আব্বাস। একই বছর সেপ্টেম্বরে গাজার দখল ছেড়ে দেয় ইসরায়েল।

—ফিলিস্তিনিদের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে গাজায় একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সশস্ত্র ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস।

—২০১৪ সালে গাজায় নতুন করে হামলা চালায় ইসরায়েল।

—এক দশকের চরম দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নিতে গত মাসে সমঝোতা চুক্তিতে সই করে ফিলিস্তিনের দুই দল হামাস-ফাতাহ। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য