kalerkantho


আবের হেসেখেলে জয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



আবের হেসেখেলে জয়

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সহজ জয় পেয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগে গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত আগাম ভোটের প্রাথমিক ফল থেকে জানা যায় এ তথ্য।

মোট ৪৬৫টি আসনের পার্লামেন্টে আবের রক্ষণশীল জোট ৩১১টি আসন পেয়েছে।

আবের এমন হেসেখেলে জয় থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, নিজের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে এবার আরো কঠোর হবেন তিনি। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে ঘুরেফিরেই এসেছে উড়নচণ্ডী উত্তর কোরিয়ার অবস্থান। এক মাসের মধ্যে জাপানের ওপর দিয়ে দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে উত্তর কোরিয়া। ফলে আবের এই জয়ের পর নিঃসন্দেহেই পিয়ংইয়ংয়ের ওপর চাপ বাড়াবে টোকিও।

বেসরকারি গণমাধ্যম টিবিএস গতকাল ভোটের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করে। এর আগে ইয়োমোরি ডেইলি তাদের ওয়েবসাইট সংস্করণে জানায়, বিশাল জয়ের পথে রয়েছেন আবে। তাদের দেওয়া সম্ভাব্য ফলাফলেও একই কথা বলা হয়। জয়ের পর জাপানে তিনিই হবেন সর্বোচ্চ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী।



গতকাল লাখ লাখ জাপানি প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়। টোকিওর এক ভোটকেন্দ্রে আসা ভোটার ইয়োশিহিসা ইয়েমোরি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া প্রশ্নে কোনো ছাড় দেননি বলেই আমি আবেকে সমর্থন করি। ’ তবে আবের জয়ের কারণ শুধু এটাই নয়। আবের দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) বিরোধীরা দুর্বল এবং বহু ভাগে বিভক্ত। প্রধান দুটি দল নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে গঠন করা হয়। ফলে আবেকে সেই অর্থে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই নামতে হয়নি। টোকিওর গর্ভনর ইউরিকো কোইকে খুব আশা জাগিয়ে দল গঠন করলেও তাঁর দল ৫০টি আসন পেয়েছে। ভোটের দিন তিনি অবশ্য জাপানে ছিলেন না। একটি বৈঠকে যোগ দিতে বর্তমানে প্যারিসে অবস্থান করছেন তিনি।

ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মিকিতাকা মাসুইয়ামা বলেন, ‘এলডিপির এত সহজ জয়ের প্রধান কারণই হলো বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ নয়। ’ এ ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে জাপানে সুপার মেজরিটি বলা হয়। এই সমর্থন নিয়ে আবে চাইলেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া জাপানের সংবিধান পাল্টে দিতে পারবেন। ওই সংবিধানে জাপানকে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া শুধু আত্মরক্ষার জন্যই সেনাবাহিনী রাখার অনুমতি দেওয়া হয় জাপানে।

মাত্র ১২ দিনের সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী প্রচার চালানোর সুযোগ পান প্রার্থীরা। এই প্রচারে অর্থনীতি এবং উত্তর কোরিয়া সংকটই প্রধান্য পায়। উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি জাপানকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়। প্রচার চলাকালে আবে জোর দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ার হুমকির কাছে তিনি মাথানত করবেন না। এ ছাড়া ঘরোয়া রাজনীতির জন্য তিনি ‘আবেনোমিকস’ শিরোনামের বিশেষ অর্থনীতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন। বিনা মূল্যে শিশুসেবা নিশ্চিতকরণের স্বার্থে তহবিল গঠনের পরিকল্পনা এবং একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে নারী উপস্থিতি বৃদ্ধির অঙ্গীকার তাঁর অন্যতম নির্বাচনী ইস্যু ছিল।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য