kalerkantho


কিরকুকে কুর্দিবিরোধী অভিযান

সেনাঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সরকারি বাহিনীর দখলে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



সেনাঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সরকারি বাহিনীর দখলে

কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য ইরাকি সেনাবাহিনী কিরকুকে পৌঁছেছে। এ সময় স্থানীয়রা তাদের স্বাগত জানায়। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

‘কোনো সংঘাত ছাড়াই’ বিতর্কিত কিরকুকের একটি বড় অংশ কুর্দি পেশমের্গা যোদ্ধাদের হাত থেকে সরকারি বাহিনীর দখলে চলে এসেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম। তবে উভয় বাহিনী, হাসপাতাল ও অন্যান্য সূত্র জানিয়েছে, সশস্ত্র সংঘাত হয়েছে এবং এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

কিরকুকে ইরাকি বাহিনীর কুর্দিবিরোধী অভিযান শুরুর পর ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইরত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় এমন কর্মকাণ্ড থেকে ইরাকি বাহিনী ও পেশমের্গা যোদ্ধাদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। যৌথ বাহিনীর মেজর জেনারেল রবার্ট হোয়াইট বলেন, ‘ইরাকি ও কুর্দি কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার জন্য আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ইরাকে সব পক্ষের মনোযোগ অবশ্যই নিবদ্ধ থাকতে হবে আমাদের সবার শত্রু আইএসআইএসকে পরাজিত করার দিকে। ’

কিরকুক নগরীর দক্ষিণে গতকাল সোমবার দিনের শুরুতেই পরস্পরের দিকে কামান দাগে সরকারি বাহিনী ও পেশমের্গা যোদ্ধারা। একজন কুর্দি কর্মকর্তা জানান, গত রবিবার রাতভর সংঘাতে তাঁদের কমপক্ষে ১০ সেনা নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য কিরকুকের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় এক সূত্র। নগরীর এক হাসপাতালের চিকিৎসক দুজনের প্রাণহানির খবর জানিয়েছেন। গত শনিবার দিবাগত রাত ২টার মধ্যে পেশমের্গাদের কিরকুক ছাড়তে সরকার নির্দেশ দিলেও তাদের অপরিবর্তিত অবস্থানের জেরে এ লড়াই শুরু হয়। গত শনি ও রবিবারের আলোচনাও ফলপ্রসূ হয়নি।

ইরাকের জয়েন্ট অপারেশন কমান্ড জানিয়েছে, কিরকুকে গতকাল তাদের বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। নগরীর দক্ষিণ-পশ্চিমে থাকা একটি সেনাঘাঁটি বর্তমানের তাদের দখলে। পেশমের্গাদের হটিয়ে সেনাঘাঁটি দখলে নেওয়াটা সরকারি বাহিনীর অভিযানের অন্যতম একটি লক্ষ্য ছিল। সেনাঘাঁটির পাশাপাশি বিভিন্ন সড়ক, সেতু, একটি শিল্প এলাকা, বেশ কয়েকটি গ্যাস স্থাপনা, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, একটি জ্বালানি তেল শোধনাগার ও একটি পুলিশ স্টেশনও তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

ইরাকের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ কিরকুক প্রদেশে ‘লড়াই ছাড়াই বড় অংশ’ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সরকারি বাহিনী। তারা আরো জানায়, কিরকুকের নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ইরাকি সেনারা ‘কিরকুক প্রদেশে সেনাঘাঁটি ও সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ’

২০১৪ সালে পশ্চিমা সামরিক জোটের সহায়তায় ইরাকের সরকারি বাহিনী, কুর্দি পেশমের্গা বাহিনী ও অন্য আধাসামরিক বাহিনীগুলো সম্মিলিতভাবে কিরকুকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানসংলগ্ন কিরকুকে ওই সময়ই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে পেশমের্গা যোদ্ধারা। কিন্তু আইএসবিরোধী লড়াইয়ের শেষ প্রান্তে এসে কিরকুক থেকে কুর্দিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় সরকার। কুর্দিস্তানের স্বাধীনতার দাবিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর গণভোট করার পর আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়তে থাকে। গত রবিবার রাত থেকে সে আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়। সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য