kalerkantho


জার্মানির নির্বাচন

চাপে থেকে জোট গঠনে মার্কেল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



চাপে থেকে জোট গঠনে মার্কেল

জার্মান চ্যান্সেলর হিসেবে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার পর গতকাল সোমবার থেকে জোট সরকার গঠনের কাজ শুরু করেছেন অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। তবে যেভাবেই তিনি এগোন না কেন, সামনের পথ খুব সহজ হবে না।

বরং এ কথা নিশ্চিতভাবেই ধরে নেওয়া যেতে পারে, দুর্ভোগ আর যন্ত্রণা অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য। তাঁর দল সিডিইউ/সিএসইউ ব্লকের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের (এসপিডি) ফলও এবার বেশ খারাপ। এরই মধ্যে দলটি ঘোষণা দিয়েছে, এবার বিরোধী দলে থাকছে তারা। আর অপ্রত্যাশিত রকম ভালো ফল হাতে পেয়ে সময় নষ্ট না করে ইসলামবিরোধী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ‘বিদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

জার্মানির সর্বাধিক বিক্রীত দৈনিক ‘বিলদ্’ গতকাল তাদের প্রধান শিরোনামে লেখে ‘মার্কেলের দুঃস্বপ্নের জয়’। পত্রিকাটি মনে করে, ‘সরকারি দল ও চ্যান্সেলরের ওপর জনগণ যে আস্থা রেখেছিল তা তারা তছনছ করে দিয়েছে। ’ ১২ বছর ধরে মার্কেল ক্ষমতায়। স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক শক্তি ছিল তাঁর ব্লকের মূল স্লোগান। এই দুটি বিষয়েই মার্কেলের সাফল্য থাকলেও গতবারের চেয়ে ৮.৫ শতাংশ ভোট কম পেয়ে এবার তাঁর ব্লকের অর্জন ৩৩ শতাংশ ভোট।

অর্থাৎ ৭০৯ আসনের পার্লামেন্টে তাঁদের আসন ২৪৬টি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এটাই তাঁর দলের সবচেয়ে খারাপ ফল। তাঁর সদ্য ছেড়ে যাওয়া জোটসঙ্গী এসপিডি পেয়েছে ২০.৫ শতাংশ ভোট। তাদের আসন ১৫৩টি।

এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমকটি দেখিয়েছে এএফডি। ১২.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টে তাদের আসন ৯৪টি এবং পার্লামেন্টে তারা তৃতীয় সংখ্যাগুরু দল। এরই মধ্যে তারা মার্কেলের অভিবাসী ও শরণার্থী নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতা আলেক্সান্ডার গাওল্যান্ড বলেন, ‘আমরা আবার ফিরে আসব। ’ সম্প্রতি এই নেতা জার্মানদের প্রতি (বিশ্ব) যুদ্ধের সেনাদের জন্য গর্ববোধ করার আহ্বান জানান। তুর্কি বংশোদ্ভূত এক সরকারি কর্মকর্তাকে তিনি বলেন, ‘তাঁকে তুলে আনাতোলিয়ায় (তুরস্ক) ফেলে আসা হবে। ’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভিন্ন সংস্কৃতির বিদেশিদের কাছে আমরা জার্মানিকে হারাতে চাই না। ’ তাদের দৃষ্টিতে মার্কেল ‘দেশদ্রোহী’।

সংবাদবিষয়ক সাময়িকী দার স্পিগেল এই পরাজয়ের জন্য সরাসরি মার্কেলকেই দায়ী করেছে। পত্রিকাটি বলছে, ‘এই পরাজয় মার্কেলেরই অর্জন। ’ একেবারে ‘ঝিমিয়ে পড়া’ একটি প্রচার চালিয়েছেন তিনি। দক্ষিণপন্থীদের তরফ থেকে যে চ্যালেঞ্জ ছিল তা তিনি প্রায় পুরোপুরি উপেক্ষা করে গেছেন। এ ছাড়া অনেকেই মনে করে, ২০১৫ সালে শরণার্থী বিষয়ে মার্কেল যে সিদ্ধান্ত নেন তাতেও ভোটারদের সায় ছিল না।

মার্কেল জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে সবার প্রতি নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘একটি স্থিতিশীল জার্মান সরকারই সবচেয়ে মূল্যবান। ’ আগাম ভোট এড়াতে একটি স্থিতিশীল জোট সরকার গঠনই এখন মার্কেলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মার্কেল আশা করেন, আগামী বড়দিনের আগেই তিনি জোটসঙ্গী পেয়ে যাবেন।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স।


মন্তব্য