kalerkantho


স্বাধীন কুর্দিস্তান প্রশ্নে আজ গণভোট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



স্বাধীন কুর্দিস্তান প্রশ্নে আজ গণভোট

স্বাধীনতা প্রশ্নে আজ গণভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছে ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কুর্দিস্তান। যদিও এই ভোটের ব্যাপারে তীব্র আপত্তি রয়েছে ইরাক সরকারের।

আর প্রতিবেশী ইরান ও তুরস্ক রীতিমতো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

বাগদাদ সরকার এরই মধ্যে এই ভোটকে অসাংবিধানিক অভিহিত করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু পশ্চিমা রাষ্ট্র এই ভোট স্থগিত বা বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, এ নিয়ে বিরোধ জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। ফলে সার্বিকভাবেই এই ভোট ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে—এমন আশঙ্কা জোরালোভাবেই তৈরি হয়েছে।

আঞ্চলিক রাজধানী আরবিলে অবশ্য নির্বাচনী উৎসবের আমেজ পুরো মাত্রায় বর্তমান। শহরের প্রায় সবখানে মাথা উঁচু করে বাতাসে উড়ছে কুর্দি পতাকা। শহরের বেশির ভাগ মানুষই ভোটে আগ্রহী। তবে এই ভোট ভবিষ্যতে কী অঘটন ঘটাবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠাও রয়েছে।

শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন আহমেদ সোলেমান (৩০)। তিনি বলছিলেন, ‘২৫ সেপ্টেম্বরের ভোটের পর কী পরিস্থিতি দাঁড়ায় তা দেখতে আমরা মুখিয়ে আছি। কারণ বেশির ভাগ কুর্দি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নপূরণ করতে স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেবে। আমরা ভয় পাচ্ছি, কারণ আমাদের প্রতি বৈরী অভিসন্ধি রয়েছে শত্রুদের। ’

ইরান ও তুরস্কে কুর্দি জনগোষ্ঠী রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরাকে গণভোট ওই দুই দেশের কুর্দিদের মধ্যেও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলবে। ইরাকের তিনটি প্রদেশে ৫৫ লাখ কুর্দি বাস করে। কুর্দিস্তান নামে পরিচিত এই এলাকাটি ২০০৩ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে। যদিও আঞ্চলিক সীমানা নিয়ে তাদের বাগদাদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে তেলসমৃদ্ধ কিরকুকের বিষয়ে।

২৭ বছর বয়সী পোশাক বিক্রেতা কামারান মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা সবাই স্বাধীনতার পক্ষে। কারণ ইরাকে থেকে কোনো লাভ হচ্ছে বলে আমরা মনে করি না। তবে প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদের বিরুদ্ধে কী ছক কষছে তা নিয়ে আতঙ্ক আছে। ’

আর এই আতঙ্কের উপযুক্ত কারণও আছে। গত শনিবার তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই ভোটের ক্ষেত্রে আংকারার প্রতিক্রিয়া অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তার মাত্রায়ও ঘটতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তাঁর দেশের সীমান্তে সামরিক অভিযান চালানোর  সম্ভাবনার কথা বলতে তিনি কোনো রাখঢাক রাখেননি।

ভোটের বিষয়টি বাদ দিয়ে ভবিষ্যতে বাগদাদ সরকারের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক হতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা শুরুর বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এতে সমর্থনও দিয়েছে।

তবে সব কুর্দিই যে স্বাধীনতা চাইছে এমন নয়। ৩০ বছর বয়সী শিক্ষক কামিরান আনোয়ার বলেন,     “আমি ‘না’ ভোট দেব। কারণ এ অঞ্চলের ওপর অবরোধ আরোপ করা হতে পারে বা হাসান আল-সাবির (শিয়া আধাসামরিক গোষ্ঠী) সঙ্গে গৃহযুদ্ধ বেধে যেতে পারে অথবা সকালে ঘুম ভেঙে হয়তো দেখব তুর্কি সেনারা শহরে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। ’

তবে বাস্তব সংকটও রয়েছে। কিরকুক প্রদেশ পুরোপুরি বাইরের খাদ্য সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। এই সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার দেখা যায়, বাসিন্দারা খাবার মজুদ করার জন্য দোকানে ছুটছে।

সর্বোপরি বাগদাদ সরকার আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, ‘বেসামরিক শান্তি ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর হুমকিস্বরূপ এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য