kalerkantho


মেক্সিকোর ভূমিকম্প

দুই সপ্তাহের মধ্যে দুটি প্রলয়, কেন?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুই সপ্তাহের মধ্যে দুটি প্রলয়, কেন?

মেক্সিকো সিটিতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে গতকাল একজনকে উদ্ধার করা হয়। ছবি : এএফপি

কোনো একটা এলাকা মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের শিকার হওয়াটা বিরল ঘটনা বটে। তবে মেক্সিকোর মতো প্রবল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার জন্য এটা মোটেই বিস্ময়কর নয়।

ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান এবং ভূখণ্ডের গঠনের কারণে মেক্সিকো অল্প বা বেশি ব্যবধানে বারবার বড় ধরনের ভূমিকম্পের শিকার হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার মেক্সিকোর একেবারে কেন্দ্রে আঘাত করেছে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বরের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মঙ্গলবারের কেন্দ্রস্থলের চেয়ে সাড়ে ৬০০ কিলোমিটার দূরে এবং ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ১। ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির ভূপ্রযুক্তি ও ভূমিকম্প প্রকৌশল বিষয়ক সহযোগী অধ্যাপক বেহজাদ ফাতাহি জানান, উত্তর আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের চ্যুতির ঘর্ষণের কারণে ভূমিকম্প দুটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেক্সিকোর সাম্প্রতিক দুটি ভূমিকম্পই ঘটেছে বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’ অভিহিত এলাকায়। ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের ভূমিকম্পবিশারদ হংফেং ইয়াং জানান, বিশ্বজুড়ে আঘাত করা ভূমিকম্পের ৮০ শতাংশ এ এলাকায় ঘটে। অশ্বখুরের নালের আকৃতির ‘রিং অব ফায়ারের’ বিস্তৃতি ২৫ হাজার মাইলজুড়ে। এই রিং অব ফায়ারের মধ্যে পড়েছে বিশ্বে সর্ববৃহৎ দুটি টেকটোনিক প্লেট উত্তর আমেরিকান ও প্যাসিফিক প্লেট এবং সেই সঙ্গে রয়েছে তুলনামূলক ছোট ককোস, ক্যারিবীয় ও পানামা প্লেট। এসব টেকটোনিক প্লেট অনবরত ঘষা খাচ্ছে এবং সেগুলো ঘটছে মেক্সিকোর মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে।

আর এ কারণে ‘রিং অব ফায়ারের মতো এত উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়ে যাওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। ’ বলেন সহযোগী অধ্যাপক ফাতাহি।

ভূপ্রাকৃতিক অবস্থানের পাশাপাশি মেক্সিকোর ভূখণ্ডের গঠন এ এলাকাকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ভূখণ্ডের গঠনগত কারণে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো সিটি। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া আর্থকুয়েক সেন্টারের পরিচালক ভূমিকম্পবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জন ভাইডেল বলেন, ‘মেক্সিকোর কেন্দ্রস্থলের মারাত্মক ভূমিকম্প ঝুঁকির ব্যাপারটা সবাই জানে। কারণ এর ভূগর্ভস্থ মাটি নমনীয় আর আর্দ্র। (ভূমিকম্পে) পর্যাপ্ত ঝাঁকি খেলে এ মাটি থালার ওপর থাকা জেলির মতো আরো বেশি করে ঝাঁকি খেতে থাকে এবং এ মাটির তারল্য বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্য দিয়ে আলগা মাটি ঘন দ্রবণে পরিণত হতে পারে। ’ এ কারণে ভূমিকম্পের জেরে পুরো শহরে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে।

কেন মেক্সিকো সিটির মাটি এতটা আলগা সে সম্পর্কে সিএনএনের আবহাওাবিদ পেড্রাম জাভাহেরি জানান, ৭০০ বছর আগে এ অঞ্চল ছিল অগভীর হ্রদ। শুকিয়ে যাওয়া সেই অগভীর হ্রদের মাটির ওপর গড়ে উঠেছে আজকের মেক্সিকো সিটি। যদি ভূমিকম্পের উৎস হয় অগভীরে, তবে এমন নমনীয় মাটির ওপর গড়ে ওঠা শহরের তূলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গত মঙ্গলবারের ভূমিকম্পের উৎসটি ছিল ভূ-উপরিভাগ থেকে মাত্র ৫১ কিলোমিটার গভীরে। সিএনএনের আরেক আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন চিনশার জানান, ভূমিকম্পের উেসর গভীরতা ৭০ কিলোমিটারের কম হলেই সেটাকে অগভীর কম্পন বলে। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের মাত্রা যেমনই হোক না কেন, গভীর ভূমিকম্পের তুলনায় অগভীর ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। ’ মেক্সিকোর সর্বশেষ অগভীর ভূমিকম্পটি সেই ক্ষতিই করে দিয়ে গেছে। সূত্র : সিএনএন।

 


মন্তব্য