kalerkantho


জাতিসংঘের সংস্কার বিষয়ক সভায় ট্রাম্প

সম্ভাবনা অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না জাতিসংঘ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সম্ভাবনা অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না জাতিসংঘ

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থার সংস্কার নিয়ে বৈঠক শুরুর আগে সভাকক্ষে আসন গ্রহণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ অন্য দেশের প্রতিনিধিরা। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জাতিসংঘ হচ্ছে ‘আড্ডাখানা’, যেখানে লোকজন ‘জড়ো হয়ে গল্পগুজব করে সময় কাটায়’। সেই ‘আড্ডাখানাতেই’ গতকাল অভিষেক হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের।

সাধারণ পরিষদে গতকাল দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ তার সম্ভাবনা অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না। সংস্থাটির আমলাতন্ত্রের চেয়ে মানুষের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত বিশেষ সভায় ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। উচ্চপর্যায়ের এ সভার আলোচ্য বিষয়ের শিরোনাম ছিল—‘জাতিসংঘের সংস্কার : ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন’। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমলাতন্ত্র ও অব্যবস্থাপনার কারণে সামপ্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘ পুরোপুরি সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারেনি। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের ৩০ শতাংশ ব্যয় কোনো দেশেরই বহন করা উচিত নয়, এটি অযৌক্তিক। ’

জাতিসংঘে দেওয়া প্রথম ভাষণে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমরা পুরো ব্যবস্থার প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিবের দেখভালের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। আমরা জাতিসংঘের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, শান্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। আমরা এমন এক জাতিসংঘ চাই, যেখানে সারা বিশ্বের মানুষের আস্থা থাকবে।

আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ করতে হবে এবং জাতিসংঘের মূল মিশনকে এগিয়ে নিতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ’

এবার সাধারণ পরিষদে উত্তর কোরিয়া, ইরান ও মিয়ানমার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হবে। এই পরিষদে যোগ দিতে বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন ১৩০টি দেশের নেতারা। তবে সবার চোখ এখন ট্রাম্পের ওপর। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর গত আট মাসে তাঁর ‘আমেরিকা সবার আগে’ নীতি ইতিমধ্যেই ‘বন্ধু-শত্রু’ সবার মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জাতিসংঘেও। কারণ সংস্থার সবচেয়ে বড় দাতা রাষ্ট্রটি হাত তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এ সংকট শুরু হলে তার ‘সমাধান করা সম্ভব হবে না’ বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে শীতল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ফ্রান্স ও রাশিয়া। জানা গেছে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেই অন্তত ৬০ কোটি ডলারের তহবিল কমাবে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ উদ্যোগের প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করছেন সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। তিনি গত শুক্রবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের যে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে তাতে সায় দিয়েছে ১২০টি রাষ্ট্র। অর্থাৎ গুতেরেসের নেতৃত্বাধীন এই সংস্থাটির বড় ধরনের সংস্কার চায় সবাই।

জাতিসংঘের বৈঠকের ফাঁকে গতকাল ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ট্রাম্পের। জাতিসংঘে এবার ম্যাখোঁরও অভিষেক হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা। এ ছাড়া আজ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুরও ভাষণ দেওয়ার কথা। দুজনই ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করবেন বলে জানা গেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবশ্য এবারের বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না। এটা অবশ্য তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়। তিনি আগেও সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যাননি।

ম্যাখোঁ ছাড়াও লাতিন আমেরিকার নেতাদের সঙ্গেও বসবেন ট্রাম্প। ভেনিজুয়েলা সংকট নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা হতে পারে। এর ফাঁকেই নৈশভোজ সারবেন তাঁরা।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হবে আগামী বৃহস্পতিবার। সেখানে পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ নিয়ে কথা হবে। স্বাভাবিকভাবেই উত্তর কোরিয়ার প্রসঙ্গ আসবে। ওই দিনই জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের সঙ্গেও বসবেন ট্রাম্প। তাঁরাও উত্তর কোরিয়ার ইস্যু নিয়েই কথা বলবেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত সপ্তাহেও উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার আওতা বাড়িয়েছে। চীন ও রাশিয়া অবশ্য নিষেধাজ্ঞা বা শক্তি প্রয়োগ নয় কূটনৈতিক পন্থায় এ সংকট সমাধানে আগ্রহী।

এ ছাড়া মিয়ানমার প্রসঙ্গেও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মিয়ানমারে যে সামরিক অভিযান চলছে তাকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নির্মূল’ বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। এরই মধ্যে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, স্পুিনক।


মন্তব্য