kalerkantho


প্রয়োজনে ‘সরকার বন্ধ’ করে মেক্সিকোর দেয়াল হবে : ট্রাম্প

ওয়াশিংটনকে সমীহ করতে শুরু করেছে পিয়ংইয়ং

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



প্রয়োজনে ‘সরকার বন্ধ’ করে মেক্সিকোর দেয়াল হবে : ট্রাম্প

মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে প্রয়োজনে ‘সরকার বন্ধ’ করে অর্থের জোগান নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরিজোনার ফিনিক্সে গত মঙ্গলবার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ শীর্ষক এক সমাবেশে ৮০ মিনিটের এক ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই সমাবেশে নানা ইস্যুতে কথা বলেন। শার্লটসভিলের ঘটনা থেকে শুরু করে মিডিয়াকে ধোলাই, উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গ থেকে নাফটা—কিছুই বাদ যায়নি।

মূলত মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ নিয়ে কংগ্রেসের বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। সরকারি তহবিল থেকে এই প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের শুধু রিপাবলিকানদের সমর্থনই যথেষ্ট নয়। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনেরও প্রয়োজন হবে। আর এ ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিষয়টি খুব ভালোভাবেই জানেন ট্রাম্প। আর তাই ভাষণে ডেমোক্র্যাটদের একহাত নেন তিনি। ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকার নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।

ট্রাম্প বলেন, ওই এলাকায় যেসব অভিবাসন কর্মকর্তা কাজ করেন তাঁরা জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের স্রোত ঠেকাতে এই দেয়াল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সে ক্ষেত্রে ট্রাম্প সরকার বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকি নেবেন বলে জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো প্রকল্পে যখন কংগ্রেস ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় তখন সরকার বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ ক্ষেত্রে অতি জরুরি নয় এমন খাত থেকে তহবিল টেনে নেয় সরকার। আগামী ১ অক্টোবর কংগ্রেস ট্রাম্পের দেয়াল প্রসঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। ধারণা করা হচ্ছে, তা ইতিবাচক হবে না। ট্রাম্প বলেন, ‘অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণের জন্যই আমেরিকার জনগণ ভোট দিয়েছে। ’

এই সমাবেশের ধরন ছিল অনেকটাই নির্বাচনী প্রচার সভাগুলোর মতো। এতে শার্লটসভিল প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাঁর ‘যথাযথ’ বক্তব্য মিডিয়া বিকৃত করে উপস্থাপনের কারণেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি যা বলেননি মিডিয়াতে তাই এসেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি  বলেছিলেন, ‘আমরা খুব কাছ থেকে ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলের ঘটনা প্রত্যক্ষ করছি। এই ঘৃণা, নির্বুদ্ধিতা ও সহিংসতাকে আমরা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি। ’ যদিও বাস্তবে ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, এই ঘটনায় যতগুলো পক্ষ জড়িয়ে আছে তাদের ঘৃণা, নির্বুদ্ধিতা ও সহিংসতাকে আমরা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি। অর্থাৎ গত মঙ্গলবারের ভাষণের সময় ট্রাম্প ‘যতগুলো পক্ষ জড়িয়ে আছে’ শব্দগুলো এড়িয়ে গেছেন। ট্রাম্পের সমালোচনা মূলত এই শব্দগুলোর জন্যই হয়েছে।

এই ভাষণে উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘দেশটির নেতা কিম জং উন আমাদের শ্রদ্ধা করতে শুরু করেছে। যদিও দেশটি গতকালই জানিয়েছে তারা ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগেই দুই দেশের মধ্যে তুমুল বাগ্যুদ্ধ হয়ে গেছে। সে প্রসঙ্গ টেনেই ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকেই বলছে, খুব কড়া কথা বলা হয়ে গেছে। আমি তা মনে করি না। তবে আমি মনে করি, এই ঘটনায় কিম জং উন আমাদের শ্রদ্ধা করতে শুরু করেছেন। আমিও এই সত্যকে শ্রদ্ধা করি। ’

এর আগে তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ করা নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে খুব শিগগির আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে উত্তরের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক থাকার জন্য চীন ও রাশিয়ার ১৬টি কম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।   


মন্তব্য