kalerkantho


আইএসের বিরুদ্ধে বাকি আরো ছয় লড়াই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০



আইএসের বিরুদ্ধে বাকি আরো ছয় লড়াই

মসুলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়েছে। জঙ্গিদের হটিয়ে ইরাকি বাহিনী শহরটি মুক্ত করেছে। মসুল উদ্ধার হলেও ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই এখনো শেষ হয়নি। এটা ঠিক যে আইএস তাদের সুসময়ে যতটা অঞ্চল শাসন করত, তার অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ) এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। সেই বিচারে তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য এসেছে বলা যায়। তার পরও ইরাক ও সিরিয়াতে আইএস এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যা উদ্ধার করা দরকার।

যদিও এসব এলাকার বেশির ভাগই জনমানবহীন, তার পরও দুই দেশেরই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহর আইএসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিরিয়ায় তো একটা প্রদেশই তাদের দখলে। সিরিয়ার রাকা, দায়ের আল জুর ও বুকামল আইএসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া ইরাকে তাল আফার, হাওয়িজা এবং আল কাইম এখনো আইএস নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব এলাকাকে আইএসমুক্ত করতে ছয়টি লড়াই দরকার।

সিরিয়ার রাকা : আইএসের স্বঘোষিত রাজধানী রাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস লড়াই করছে। পাঁচ সপ্তাহের লড়াইয়ে প্রথম চার সপ্তাহে শহরের এক-পঞ্চমাংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডিলন। তার অর্থ এই নয় যে বাকি এলাকা উদ্ধারে পাঁচ মাস লড়াই করতে হবে। রাকা মসুলের থেকে ছোট শহর এবং কম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। কিন্তু এখানে তারা কম আক্রমণাত্মক হবে বা শক্ত প্রতিরোধ গড়তে পারবে না এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই।

সিরিয়ার দায়ের আল জুর : প্রদেশের নাম যেমন দায়ের আল জুর, তেমনি প্রাদেশিক রাজধানীর নামও একই। উভয় এলাকাই আইএসের নিয়ন্ত্রণে। গত কয়েক মাস ধরে আইএস নেতা ও যোদ্ধারা অন্য এলাকা থেকে এসে এখানে ঘাঁটি তৈরি করেছে। যদিও তাদের নিয়ন্ত্রিত বেশির ভাগ এলাকা মরুভূমি, তবে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে কয়েকটি শহরও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সিরিয়ার বুকামল : ইরাক সীমান্তে অবস্থিত এই এলাকাটি দায়ের আল জুর প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সিরিয়ান বিদ্রোহীদের নিয়ে একটা শক্তি গঠন করতে চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র এবং সিরিয়া ও ইরান সমর্থিত শক্তির মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

ইরাকের তাল আফার : মসুলের ৩০ মাইল পশ্চিমে মাঝারি আকারের এই শহরটিতে সম্ভবত ইরাকি বাহিনী পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করবে। এই এলাকা আইএসের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তা ছাড়া এটি উত্তর-পশ্চিম ইরাকের অন্যতম শিয়া অধ্যুষিত এলাকা ছিল। আইএস শহরটি দখল করার সময় তারা পালিয়ে গেছে। এখন এর চারদিকে শিয়া মিলিশিয়ারা ছড়িয়ে রয়েছে। তবে তারা না ইরাকি সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইরাকের হাওয়িজা : কুর্দি নিয়ন্ত্রিত কিরকুক শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রাম্য এলাকা এটি। আইএস নিয়ন্ত্রিত সবচেয়ে পূর্বাঞ্চলের এলাকা হাওয়িজা। আইএস এখান থেকেই সর্বপ্রথম সমর্থন পায়। হাওয়িজা পুরোপুরি অবরুদ্ধ  থাকা একটি এলাকা। এর তিন দিকে রয়েছে কুর্দি পেশমেরগা বাহিনী এবং একদিকে ইরাকি সেনাবাহিনী। এখানে কারা অভিযান পরিচালনা করবে সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইরাকের আল কাইম : সিরিয়ার বুকামল সীমান্তে ইরাকের সীমানায় অবস্থিত এই এলাকাটি। আনবারের মরুভূমি প্রদেশে অবস্থিত এলাকাটি আইএসের নিয়ন্ত্রিত অন্যতম তাত্পর্যপূর্ণ শহর। এটি মরুভূমি পরিবেষ্টিত এলাকা। আইএসের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা এখানে আস্তানা করার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে। এখানে সম্ভবত ইরাকি বাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে।

সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট।

 


মন্তব্য