kalerkantho


টিলারসনের দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার দায় ইরানের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের দুই মন্ত্রী আলাদা বক্তব্যে ইরানের ওপর এ দায় চাপান। এর জবাবে গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ রকম দুর্বল অভিযোগ করার কোনো মানে হয় না।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন তাঁর দপ্তরে বক্তব্য দানকালে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের দিকে ইরান বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে। তাদের কারণে নানামুখী দ্বন্দ্ব আরো বেড়ে চলেছে। তারা সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাবনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থহানি ঘটাচ্ছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলায় তারা অব্যাহত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ’ টিলারসনের মতে, ইরানের উদ্বেগজনক এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সন্ত্রাস ও সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং ওই অঞ্চলে বিভিন্ন দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। একই দিন সৌদি আরব সফররত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস মন্তব্য করেন, ইয়েমেন যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হলে ইরানের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রভাব এড়াতে হবে।

টিলারসনের এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যে দুর্বল অভিযোগ তুলেছে, সেটা দিয়ে ইরানের পরমাণু চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকারোক্তি আড়াল করা যাবে না। ’ না বললেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার দায় ইরানের ওপর চাপালেও টিলারসন স্বীকার করেছেন, ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তি মেনে চলছে তেহরান। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি ইরান সম্পর্কে এ স্বীকারোক্তি করেন।

পরদিন বুধবার ওই চিঠির পর্যালোচনা করতে গিয়ে টিলারসন এটাও বলেন, ‘ইরানকে নজরদারির মধ্যে না রাখলে তারা হয়তো উত্তর কোরিয়ার মতো একই পথে হাঁটবে এবং বাকি বিশ্বকেও নিজেদের সঙ্গে টেনে নিয়ে যাবে। ’ এ মার্কিন মন্ত্রীর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্তরসূরি বারাক ওবামার আমলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং সেটা ঠেকাতে চুক্তি করা হয়েছে। কিন্তু চুক্তি করার সময় ইরানের দিক থেকে সম্ভাব্য অন্য হুমকিগুলো হেলাফেলা করা হয়েছে। টিলারসন বলেন, ‘এ জন্যই ইরানের ওপর সব দিক থেকে নজর রাখতে হবে। ’ ইরানের পরমাণু চুক্তির ব্যাপারে টিলারসনের অভিমত, ‘ইরানকে পরমাণুমুক্ত করার লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের পরমাণু ক্ষমতাধর রাষ্ট্র হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে বিলম্ব ছাড়া আর কিছুই হয়নি। ’ তিনি বলেন, ‘অতীতের যে ব্যর্থতার দরুন আমরা বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার দিকে আসন্ন হুমকির সামনে দাঁড়িয়ে আছি, এই চুক্তিও সেই একই ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। ’ ইরান পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে, এমন আশঙ্কায় তাদের পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টানতে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানির সঙ্গে তাদের এক চুক্তি হয়। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।


মন্তব্য