kalerkantho


ট্রাম্পের দেশে মনে হয় আর সম্মান পাব না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্পের দেশে মনে হয় আর সম্মান পাব না

স্টিফেন হকিং

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দুটি সম্মানজনক পদক যিনি অর্জন করেছেন, সেই ব্রিটিশ পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের ভয়, সে দেশে এবার গেলে হয়তো তিনি যথাযথ সম্মান পাবেন না। কট্টর অভিবাসীবিরোধী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণেই তাঁর মধ্যে এ ভীতির জন্ম হয়েছে বলে জানান এই ব্রহ্মাণ্ডবিদ।

গুড মর্নিং ব্রিটেনকে গতকাল সোমবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে হকিং তাঁর আতঙ্কের কথা জানান। তাঁর অভিমত, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র একদম ডানপন্থা আর স্বৈরাচারের দিকে এগোচ্ছে। আর এখানেই তাঁর ভয়। তিনি বলেন, ‘আমি আবার (যুক্তরাষ্ট্রে) যেতে চাই এবং অন্য বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। কিন্তু আমার ভয়, আমাকে হয়তো আর স্বাগত জানানো হবে না। ’ অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছ থেকে হকিং গ্রহণ করেছেন প্রেসিডেনশিয়াল স্বাধীনতা পদক। যুক্তরাষ্ট্রের সম্মানজনক ফ্রাংকলিন পদকও পেয়েছেন এ পদার্থবিদ।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৫ বছর বয়সী গবেষক হকিং উদ্বিগ্ন ট্রাম্পের পরিবেশবিষয়ক মনোভাবেও। পরিবেশ নিয়ে পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা আর কর্মকাণ্ডকে ধাপ্পাবাজি মনে করেন ট্রাম্প। সেদিকে ইঙ্গিত করে হকিং বলেন, ‘আমাদের সামনে আসা সবচেয়ে ভয়াবহ বিপদগুলোর একটি হলো জলবায়ু পরিবর্তন। তবে এটা আমরা প্রতিরোধ করতে পারি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমেরিকার ওপরই সর্বাধিক। সুতরাং সমস্যাটা সামাল দিতে পারলে তিনি হয়তো দ্বিতীয় মেয়াদে জিতে যাবেন। ’ পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধানের পদ থেকে পরিবেশবাদবিরোধী স্কট প্রুইটকে সরিয়ে দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন হকিং।

ট্রাম্প সম্পর্কে হকিং আরো বলেন, ‘বিশ্বায়নের প্রতি বিতৃষ্ণ যেসব মানুষ অভিজাত শাসকদের কারণে নিজেদের অধিকারবঞ্চিত মনে করেছে, তাদের ভোটেই ট্রাম্প নির্বাচিত হয়েছেন। যারা উদারপন্থী নয় কিংবা তথ্যসমৃদ্ধও নয়, সেই সব নির্বাচককে সন্তুষ্ট করাটাকেই ট্রাম্প অগ্রাধিকার দেবেন। ’

এত কিছুর মধ্যেও হকিং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে আশাবাদী। কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, হকিং নিজের দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরো অনেক বিষয় নিয়েই এদিন কথা বলেন। সূত্র : গার্ডিয়ান।


মন্তব্য