kalerkantho


নাইজেরিয়ায় স্কুল ছাত্রী অপহরণের তিন বছর

‘আমাদের ভুলে যাবেন না’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘আমাদের ভুলে যাবেন না’

‘এক দিন বা দুই দিন নয়, তিন বছর। সেটা খুব কষ্টের।

’—নাইজেরিয়ার জঙ্গিদের হাতে অপহৃত বন্ধুদের কথা এভাবেই স্মরণ করছিল মেয়েটি। গতকাল শনিবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস ফোরাম’ শীর্ষক সম্মেলনে আরো অনেক কথাই বলেছে সে।

২০১৪ সালের এপ্রিলে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বোর্নো রাজ্যের চিবক এলাকার এক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২৭৬ বা তার বেশি ছাত্রীকে অপহরণ করে বোকো হারাম জঙ্গিরা। অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া ওই মেয়েদের আজও উদ্ধার করা যায়নি। অপহরণচেষ্টার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুজন ও পরে আরো কয়েকজন পালিয়ে আসতে পারলেও বাকিরা এখনো জঙ্গিদের কবলেই রয়ে গেছে। যে দুজন প্রথমেই পালাতে পেরেছিল তাদের উভয়েই সা’আ ও র‌্যাচেল (দুটোই ছদ্মনাম) গতকাল দুবাইয়ে এক শিক্ষা সম্মেলনে অংশ নেয় এবং তুলে ধরে তাদের সেদিনের ভয়ানক অভিজ্ঞতা। সেই সঙ্গে তারা বন্ধুদের জন্য নিজেদের আশঙ্কা আর বেদনাদায়ক অনুভূতির কথাও জানায়।

সা’আ গোটা বিশ্ববাসীর দিকে আঙুল তাক করে বলে, ‘বিশ্বকে কিছু একটা তো করতে হবে। ’ ঘটনার তিন বছরেও অপহৃত মেয়েরা উদ্ধার না হওয়ায় সে প্রশ্ন তোলে, ‘কেমন লাগত, যদি আপনাদের মেয়ে বা স্ত্রী নিখোঁজ থাকত? এক দিন বা দুই দিন নয়, বরং তিন বছর।

অপহরণের সেই রাতের কথা স্মরণ করতে গিয়ে সা’আ জানায়, ক্লাসরুম আর বইসহ সব কিছু জ্বালিয়ে দিয়েছিল বোকো হারাম জঙ্গিরা। অস্ত্রের মুখে মেয়েদের ট্রাকে আর কারে তুলে নিয়ে যায় তারা। জঙ্গিরা গাড়িগুলো নিয়ে জঙ্গলে ঢোকার পর পরই সা’আ আর তার আরেক বন্ধু ট্রাকের পেছন থেকে লাফিয়ে পড়ে। জঙ্গলের আঁধারে পুরো রাত নিজেদের আড়াল করে রাখে তারা। পরে দিনের আলোয় তারা এক রাখালের দেখা পায়। সেই রাখালের সহায়তায় তারা বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পায়। সা’আ বলে, ‘ভেবেছিলাম, ওই রাতেই বুঝি মারা যাব। ’ মুহূর্তের মধ্যে ট্রাকের পেছন থেকে লাফিয়ে পড়ার সিদ্ধান্তটা না নিলে তাকেও যে বন্ধুদের পরিণতি বরণ করতে হতো এবং আজও যে তাকে স্বজনহারা হয়ে থাকতে হতো, সেটা বলতে ভোলেনি সা’আ।

পালিয়ে আসতে পেরে সা’আ যে বন্ধুদের ভুলে গেছে, তা কিন্তু নয়। একসময় আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর থাকা সেই মেয়েদের কথা স্মরণ করে সে বলে, ‘ওই মেয়েদের কথা আমার মনে পড়ে। কিন্তু তাদের আর এখন কোনো স্বপ্ন নেই। ’ তাই বলে স্বপ্নহারা সেই মেয়েদের ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েনি সা’আ। সে এবং র‌্যাচেল গতকালের সম্মেলনে বাকি বন্ধুদের ফিরে পাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টার আহ্বান জানায়। তারা আরো চায়, নাইজেরিয়ার স্কুলগুলোতে মেয়েদের নিরাপদে পড়ালেখার ব্যবস্থা যেন নিশ্চিত করা হয়। আর তারা দুজন শিক্ষার শেষ ধাপ পর্যন্ত যেতে চায়। সা’আ ও র‌্যাচেল জানায়, সেই রাতের অভিজ্ঞতা শিক্ষা অর্জনের ব্যাপারে তাদের আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে। অপহৃত বন্ধুরা যে স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে, নিজেদের জীবনে সেই স্বপ্ন তারা সত্যি করতে চায়। সূত্র : বিবিসি।

 


মন্তব্য