kalerkantho


পিয়ংইয়ং পাল্টা জবাব দিলে সবচেয়ে ক্ষতি হবে সিউলের

উত্তর কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পিয়ংইয়ং পাল্টা জবাব দিলে সবচেয়ে ক্ষতি হবে সিউলের

প্রয়োজনে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, সত্যি সত্যিই সামরিক ব্যবস্থা নিলে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু হামলা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা। আর পিয়ংইয়ং পাল্টা ব্যবস্থা নিলে সবচেয়ে মাসুল দিতে হবে দক্ষিণ কোরিয়াকে। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পরমাণু হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

গত শুক্রবার পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের কী কী প্রতিবন্ধকতার সামনে পড়তে হবে, কিংবা কী কী সুবিধা পাবে—সার্বিক বিষয়ে বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে গতকাল শনিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ‘স্ট্রার্টফোর’ মনে করে, স্বপ্রণোদিত হয়ে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু হামলার জন্য অপেক্ষা করবে না। সে ক্ষেত্রে প্রথম প্রশ্ন হলো, সেখানে কী ইরাকের মতো করে শাসকের পরিবর্তন ঘটনানোর জন্য হামলা চালানো হবে, নাকি কেবল তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারকেই নিশানা করা হবে?

‘স্ট্রার্টফোর’ তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলেছে, উত্তর কোরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা ওয়াশিংটনের নেই। তবে এটা ঠিক, যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মানেই হলো উত্তর কোরিয়াকে যুদ্ধের উসকানি দেওয়া।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘হেরিটেজ ফাউন্ডেশন’-এর ব্রুস ক্লিংগার মনে করেন, উত্তর কোরিয়া স্বপ্রণোদিত হয়ে হামলা চালানোর আগে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত হবে না।

দুই পক্ষের সামরিক সক্ষমতার দিকেও এএফপির বিশ্লেষণে আলোকপাত করা হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, কোরিয়া যুদ্ধের পর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি রয়েছে। আর এ সংখ্যা বর্তমানে ২৮ হাজারের মতো। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিয়মিত সামরিক মহড়াও চলে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ায় সামরিক হামলা হলে বোমারু বিমানের ওপর বেশি ভরসা করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। এ ক্ষেত্রে বি-২, এফ-২২ কিংবা এফ-৩৫ হবে তাদের মূল অস্ত্র। বলা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী হলেও তা এসব বোমারু বিমানের জন্য যথেষ্ট নয়।

ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনও আছে যুক্তরাষ্ট্রের। এগুলোর মাধ্যমে হামলা চালানোও বিকল্প উপায় হতে পারে তাদের জন্য। তবে সব কিছুর পরও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি নস্যাৎ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হবে। কেননা তাদের পরমাণু স্থাপনার অবস্থান কোথায় কোথায়, সে সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, উত্তর কোরিয়া পাল্টা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে? দেশটির নেতা কিম জং-উন ভালোভাবেই নিজের সীমাবদ্ধতার কথা জানেন। তাঁর বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা চালানোর অর্থ হলো তাঁর শাসনামলের সমাপ্তি। কিন্তু পিয়ংইয়ং অল্প পরিসরে জবাব দিলেও পরিণতি হবে ধ্বংসাত্মক। কারণ দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে প্রচুর বোমা মজুদ করা আছে তাদের। আর সীমান্ত থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীর দূরত্ব মাত্র ৩৫ মাইল। এ কারণে উত্তর কোরিয়া কেবল রকেট নিক্ষেপ করলেও সেখানে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য