kalerkantho


প্যারিসের অর্লি বিমানবন্দরে গুলিতে ‘সন্ত্রাসী’ নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্যারিসের অর্লি বিমানবন্দরে গুলিতে ‘সন্ত্রাসী’ নিহত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অর্লি বিমানবন্দরে গতকাল নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম আংশিক বন্ধ রাখা হয়। ফলে দুর্ভোগে পড়ে অনেক যাত্রী। ছবি : এএফপি

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অর্লি বিমানবন্দরে শনিবার এক সেনার অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পর নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। ঘটনার পর প্যারিসের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দরটি যাত্রীশূন্য করা হয় এবং দুটি টার্মিনালই বন্ধ ঘোষণা করা হয়। প্যারিস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইটে অর্লি বিমানবন্দর ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ জানায়। গতকালই পরের দিকে বিমানবন্দরটি আংশিকভাবে চালু করা হয়।

ঘটনা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পিয়েরে অঁরি ব্রান্ডেট জানিয়েছেন, ‘এক সেনার কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পর এক ব্যক্তি বিমানবন্দরের এক দোকানের মধ্যে লুকিয়ে ছিল। সেখানে তাকে নিরাপত্তাকর্মীরা গুলি করলে সে মারা যায়। ’ পিয়েরে অঁরি আরো জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অন্য কেউ আহত হয়নি। তবে লোকটির কাছে কোনো বিস্ফোরক ছিল কি না তা পরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় একটি টার্মিনাল থেকে প্রায় তিন হাজার যাত্রী সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্লি বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে ৫৪ বছর বয়সী ফ্রাংক লেক্যাম বলেন, ‘আমরা তেল আবিবের ফ্লাইটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম।

এমন সময় কাছাকাছি স্থানে তিন থেকে চারটি গুলির শব্দ শুনতে পাই। আমরা বিমানবন্দরের প্রবেশদ্বার থেকে এখন ২০০ মিটার দূরে অপেক্ষা করছি। সেখানে পুলিশ, জরুরি অবস্থার জন্য কর্মচারী এবং সেনারা অবস্থান করছে। একজন নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছেন, তুর্কি এয়ারলাইনসের ফ্লাইটের কাছে এই ঘটনা ঘটেছে। ’

তবে পুলিশের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘটনার আগে প্যারিসের উত্তরের শহরতলিতে গাড়ি তল্লাশির সময় যে ব্যক্তি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলিতে আহত করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, সেই ব্যক্তিই বিমানবন্দরের ঘটনায় নিহত হয়েছে। ওই ব্যক্তির গাড়িটি বিমানবন্দরে পার্ক করা অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ সূত্র জানায়, ৩৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি উগ্রপন্থী মানসিকতার হিসেবে পুলিশের নজরদারি তালিকায় ছিল।

২০১৫ সালের নভেম্বরে সন্ত্রাসী হামলার পর এবং গত বছর নিসে ট্রাক নিয়ে সন্ত্রাসী ঘটনার পর ফ্রান্সে এখনো জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। গত মাসে প্যারিসের ল্যুভ মিউজিয়ামে এক ব্যক্তি ছুরি নিয়ে এক সেনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পর তাকে গুলি করে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্যারিস অফিসে চিঠিবোমা বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় অফিসের সেক্রেটারির হাত ও মুখ ঝলসে যায়। এরপর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছিলেন, ‘এ ঘটনা প্রমাণ করে আমাদের দেশ এখনো তাদের লক্ষ্যে রয়েছে। এ ঘটনা প্রমাণ করে এখনো জরুরি অবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। ’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য