kalerkantho


আবারও ঢিল ছুড়লেন এরদোয়ান

‘ক্রুসেড’ শুরু করেছে ইইউ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ইউরোপের সঙ্গে বাগ্যুদ্ধে ছেদ টানতে চাইছেন না তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। তাঁর একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে। এক সমাবেশে গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ (ক্রুসেড) শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ইউরোপ আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের সময়ে ফিরে যাচ্ছে। ’ এমন উসকানিমূলক মন্তব্যের মধ্যেই জার্মানির একটি শহরে এরদোয়ানের সমর্থকদের গণভোটের প্রচার চালানোর জন্য জনসভা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে তুরস্কের মন্ত্রীসহ রাজনৈতিক নেতাদের প্রচার চালাতে বাধা দেওয়ায় দেশটির সঙ্গে ইইউর উত্তেজনা চলছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তুরস্ক ও ইইউর মধ্যে সই হওয়া শরণার্থী চুক্তি বাতিলেরও হুমকি দিয়েছেন তুরস্কের শীর্ষ নেতারা।

এখানে বলে রাখা ভালো, এপ্রিলের ১৬ তারিখ তুরস্কে অনুষ্ঠেয় গণভোট নিয়ে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত লাখ লাখ তুর্কি ভোটারদের মধ্যে প্রচার চালাতে আগ্রহী তুরস্ক। ওই গণভোটের মাধ্যমে তুর্কি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জনসভায় উপস্থিতদের উদ্দেশে এরদোয়ান বলেন, ‘ক্রস আর অর্ধচন্দ্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া এর আর কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না।

’ ইউরোপীয় কোর্ট অব জাস্টিসের এক সাম্প্রতিক রায়ের কথা উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, ওই রায়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপ ‘ধর্মযুদ্ধ’ শুরু করেছে। রায়ে কম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের (কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে) স্কার্ফসহ দৃশ্যমান সব ধর্মীয় প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে বলে জানানো হয়।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়ার’ অভিযোগ এনেছিলেন। মার্কেল জার্মানিতে সন্ত্রাসীদের লুকিয়ে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরদোয়ান বলেন, সম্ভাব্য সন্ত্রাসীদের বিষয়ে যে সাড়ে ৪ হাজার ফাইল তুরস্ক জার্মানিকে দিয়েছে সে বিষয়ে বার্লিন সরকার কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

তবে মার্কেল এসব বিষয়ে কথা চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন। গতকাল জার্মানির আঞ্চলিক এক পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের উত্তেজনামূলক মন্তব্য বিনিময় চালিয়ে যেতে আগ্রহী নই। ’

এমন এক ঘোলাটে পরিস্থিতির মধ্যেই জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় শহর হ্যানোভার তুরস্কের গণভোটের প্রচার চালাতে আয়োজিত একটি সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এ ঘটনায় আংকারা ও বার্লিনের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়বে। শহরের মেয়র স্টেফান স্কসটোক বলেন, ‘শহরে নির্বাচনী প্রচার চালাতে এমন জনসভার আয়োজন হোক—তা আমরা চাইছি না। মেয়র হিসেবে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব আমি আমার শহরে টেনে আনতে চাই না। ’ সূত্র : এএফপি, ডয়চে ভেলে।


মন্তব্য