kalerkantho


নারদা স্টিং অপারেশন

তদন্ত করবে সিবিআই বেকায়দায় তৃণমূল

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নারদা কাণ্ডের তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নারদা-সংক্রান্ত সব নথিপত্র নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিবিআইকে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতের কাছে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল শুক্রবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি নিশীথা মাত্র এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেন।

বিচারপতিদের নির্দেশ, অভিযুক্ত আইপিএস কর্মকর্তা মির্জা হোসেনকে বহিষ্কার করে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।

আদালত সূত্রের খবর, বিচারকরা রায়ে মন্তব্য করেছেন রাজনীতিতে দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা মুক্ত করতে হলে স্বাধীন কোনো তদন্ত সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করতে হবে। তাঁরা এও মনে করেন, কয়েকজন মন্ত্রীও অভিযুক্ত, তাই তদন্তে প্রভাব খাটাতে পারে সে কারণে পুলিশকে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা সম্ভব নয়।

এদিকে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দারস্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সরকারি অফিসে বসে এই প্রতিক্রিয়া দেন।  

গত বছর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে নারদাডটকম নামের একটি অনলাইন পোর্টাল তৃণমূলের ১২ জন পার্লামেন্ট সদস্য ও কয়েকজন মন্ত্রীর ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে।

ফুটেজে দেখা গেছে, বর্তমান পৌরমন্ত্রী ফিরাদ হাকিম, তৃণমূল সহসভাপতি মুকুল রায়, তৃণমূল পার্লামেন্ট সদস্য শুভেন্দু অধিকারী, পার্লামেন্ট সদস্য ডা. কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সাবেক পরিবহনমন্ত্রী মদন মিত্রের মতো প্রভাবশালী তৃণমূল নেতৃত্ব ঘুষ নিচ্ছেন।

তৃণমূল প্রথম দিকে ফুটেজ বানানো বলে দাবি তুললেও পরবর্তী সময়ে ফরেনসিক পরীক্ষায় ফুটেজের সত্যতা সামনে আসার পর তৃণমূল তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে নির্বাচনে প্রচারের তহবিল হিসেবে অর্থ গ্রহণ করার কথা স্বীকার করে।


মন্তব্য