kalerkantho


দ. কোরিয়ায় গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি

প্রয়োজনে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রয়োজনে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা

উত্তর কোরিয়ার আচরণে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। আর তাই প্রয়োজন পড়লে শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না যুক্তরাষ্ট্র।

দক্ষিণ কোরিয়ায় সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার এ ধরনের মনোভাবের কথা জানিয়েছেন।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার জাপান সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক রেক্স টিলারসন উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি ঠেকাতে গত দুই দশকের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ বলে স্বীকার করে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। আর গতকাল তিনি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বললেন। চীন সফরে গিয়েও তিনি উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীনা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবেন বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর টিলারসন আজ শনিবার উত্তর কোরিয়ার মিত্র দেশ চীনে পৌঁছবেন।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মাঝখানে সামরিক উপস্থিতিমুক্ত এলাকা সফরের পর গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ুন বাইয়ুং সের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন টিলারসন। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কর্মসূচির বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, সে সম্পর্কে টিলারসন বলেন, ‘আমরা নতুন পরিসরে কূটনৈতিক, নিরাপত্তা বিষয়ক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ যাচাই করে দেখছি। সম্ভাব্য সব উপায় নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। নিশ্চিতভাবেই আমরা সামরিক সংঘাতে জড়াতে চাই না। কিন্তু তাদের হুমকি যদি চরমে পৌঁছে আর সেটার কারণে আমাদের পক্ষ থেকেও সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে, তবে আলোচনার টেবিলে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টিও থাকবে। ’
পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার চেষ্টা দীর্ঘদিনের। ২০০৬ সালে তারা প্রথম ভূগর্ভে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। পরে আরো চারটি পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় দেশটি, যার দুটি হয় গত বছর। এসবের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণের পরীক্ষা তো চলছেই। সর্বশেষ গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া জাপানের জলসীমায় চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন মিত্র জাপানের দিকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। জাতিসংঘ সমর্থিত আন্তর্জাতিক অবরোধ সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া তাদের এসব কর্মসূচিতে ক্ষান্ত দেয়নি। দেশটির এমন বেয়াড়াপনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র খানিকটা দায় চীনের ওপর চাপাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, পিয়ংইয়ংয়ের ওপর আন্তর্জাতিক অবরোধের সবটুকু পেইচিং কার্যকর করছে না, যার ফলে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি কোণঠাসা করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে গতকাল টিলারসন বলেন, ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুসারে সব দেশের সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে (উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে) সর্বোচ্চ যতটা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, সেটা আমরা অর্জন করতে পারিনি বলেই আমি মনে করি। ’ চীন সফরে টিলারসন এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেবেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে টিলারসনের এ মন্তব্য কেবল কথার কথা নয় বলে মনে করেন দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক আসান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ চোই কাং। তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়া ও চীন—দুই পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কথাটা বাগাড়ম্বরপূর্ণ হতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের বর্তমান হালচাল দেখে মনে হচ্ছে না যে বিষয়টা শুধু কথার মধ্য দিয়ে শেষ হবে। আমাদের দেখতে হবে, সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টা নিয়ে তারা কতদূর যেতে আগ্রহী। ’ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিশ্লেষক মহলের নজর রাখার কথা বললেও একটা ব্যাপারে নিশ্চিত অভিমত জানিয়ে চোই কাং বলেন, ‘ওয়াশিংটন যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় যেতে আগ্রহী নয়, সেটা কিন্তু তিনি (টিলারসন) বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ’ সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য